মুন্সীগঞ্জে আলাদা দুই স্থানে হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে জেলার সিরাজদীখান ও লৌহজংয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে সিরাজদীখানের বালুচরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও কালাই চাঁন মাদবরের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলেক চান সজীব, গৃহবধূ মনজুরা আক্তার, গুলেনুর বেগমসহ বেশ কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে টেঁটাবিদ্ধসহ আহতদের নাম জানা যায়নি। সংঘর্ষের পরপরই তারা গোপনে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ছুটে যান।
এদিকে, সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহে গেলে সালাহউদ্দিন সালমান (৪২) নামে এ সাংবাদিককে পিটিয়েছে পুলিশ। এসময় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সেলিনা বেগম (৪১) নামে এক নারীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই নারী পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।
সংঘর্ষের বিষয়ে সিরাজদীখান থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার টাকা ভাগবাটোয়ারা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় ২২৫টি টেঁটা জব্দ ও নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে লৌহজংয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব কুমারভোগ সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি তুচ্ছ ঘটনায় পূর্ব কুমারভোগ সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার হেফজ্ বিভাগের ছাত্র রিফাতের (১৪) বাবা জামাল মোল্লা দলবল নিয়ে এসে মাদ্রাসায় হামলা চালান। হামলা থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ির সময় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অভিযুক্ত জামাল মোল্লা পশ্চিম কুমারভোগ পুনর্বাসনের বাসিন্দা হাসেম মোল্লার ছেলে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহিম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।