মেয়েকে বাবা, চাচাকে ভাতিজা, শাশুড়িকে জামাইয়ের হত্যা 

গাজীপুরে কাঁঠাল কাটতে বাধা দেওয়ায় বাবার দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছে মেয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কাপাসিয়ায় চাঁদপুর ইউনিয়নের ধরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খুলনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার ধারালো অস্ত্রাঘাতে নিহত হয়েছেন চাচা। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলতলা উপজেলার খানজাহানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বগুড়ার আদমদীঘিতে স্ত্রীর খাবার দিতে দেরি হওয়ায় শাশুড়িকে হত্যা করেছে জামাই। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির মিতুইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

বাবার হাতে মেয়ে খুন : মায়ের জমি থেকে বাবাকে কাঁঠাল কাটতে বাধা দেওয়ায় স্মৃতি আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী বাবার হাতে খুন হয়েছেন। গাজীপুরের কাপাসিয়ার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধরপাড়া গ্রামে গতকাল সকালে ঘটনার পর বাবা শারফুদ্দিন (৬০) পালিয়ে গেছেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আতিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মো. শারফুদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী ছালেমা বেগমের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া বাগানের গাছ থেকে কাঁঠাল কাটতে গেলে স্মৃতি আক্তার বাধা দেন। এ সময় স্মৃতি তার বাবাকে বলেন, যেহেতু তার মাকে তিনি ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছেন এবং মায়ের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই বাগানের জমি লিখে দিয়েছেন তাই এ জমি থেকে কাঁঠাল কাটতে দেবেন না। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শারফুদ্দিন তার হাতে থাকা দা দিয়ে স্মৃতি আক্তারের গলায় ও হাতে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় স্মৃতি আক্তারের একটি হাত ও গলা কেটে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্মৃতি আক্তারের মা ছালেমা বেগম শারফুদ্দিনের প্রথম স্ত্রী এবং তাদের সংসারে চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তারা মায়ের জমিতে ঘর করে বসবাস করছে। শারফুদ্দিন পরবর্তী সময়ে আরও চারটি বিয়ে করেছেন।

নিহত স্মৃতি আক্তারের পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার দুবরিয়া গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

কাপাসিয়া থানার ওসি মো. আবু বকর মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং ঘাতক শারফুদ্দিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাতিজার হাতে চাচা খুন : খুলনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার ধারালো অস্ত্রাঘাতে শেখ মুজিবুর রহমান (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় মুজিবুর রহমানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী পুষ্প বেগম (৫০) ও ছেলে শেখ মিরাজ (২২) গুরুতর আহত হন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলতলা উপজেলার খানজাহানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ মুজিবুর রহমান খানজাহানপুর গ্রামের মৃত শেখ আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার জানান, শেখ মুজিবুরের সঙ্গে তার ভাতিজা আশরাফুল আলম ওরফে শেখ কুতুব উদ্দিনের জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জের ধরে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কুতুব উদ্দিন ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে চাচা মুজিবুরকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এ সময় তাকে ঠেকাতে গেলে কুতুব উদ্দিন মুজিবুরের স্ত্রী পুষ্প বেগম ও ছেলে হাফেজ শেখ মিরাজকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। ধারালো হাঁসুয়ার আঘাত ঠেকাতে গিয়ে মুজিবুরের ডান হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেখ মুজিবুর রহমানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজিবুরের স্ত্রী পুষ্প বেগম ও ছেলে হাফেজ শেখ মিরাজকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ঘাতক ভাতিজা কুতুব উদ্দিন পালিয়ে যান। ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জামাইয়ের হাতে শাশুড়ি খুন : বগুড়ার আদমদীঘিতে রান্না খাবারের পাতিল নামানোর বেড়ির আঘাতে জোবেদা (৫৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার মেয়ের জামাই রাসেল হোসেন (২৭) রাগের বসে তাকে ওই বেড়ি দিয়ে আঘাত করেন। এতে আহত ওই নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তিনি। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির মিতুইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবেদা ওই গ্রামের মৃত সোলেমানের স্ত্রী। এ ঘটনায় এদিন রাতেই জামাই রাসেল হোসেনকে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১২ বগুড়া।

জানা যায়, উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির মিতুইল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ছালেহা  বেগমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন জামাই রাসেল হোসেন। বুধবার দুপুরে কাজ শেষে খাবার খেতে যান জামাই রাসেল। খাবার তৈরি হতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করেন তিনি। এ সময় তার শাশুড়ি বাধা দিতে গেলে রান্না করা খাবারের পাতিল নামানোর বেড়ি দিয়ে আঘাত করেন শাশুড়ি জোবেদাকে। বেড়িটি গলার শ্বাসনালিতে  লেগে গুরুতর আহত হন জোবেদা। পরে আহত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আর জামাই রাসেল হোসেন ঘটনার পর পরই পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই আদমদীঘি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন নিহতের ভাই তবিবুর রহমান।

বগুড়া র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত জামাই রাসেলকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদমদীঘি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।