চিকিৎসক নিয়োগে দুর্নীতি ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠি

বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ার পর ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট শাখা থেকে ২৩ মে এ চিঠি পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবকে দেওয়া চিঠিতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা দুদককে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়ে অনিয়মের একটি অভিযোগ আসে। এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান হলেন মহাপরিচালক (প্রশাসন)। যখন এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগ আসে, তখন মহাপরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন না। দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীকে মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন।

দুদকের অন্য একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ দুদককে অবহিত করেনি।

বিএসএমএমইউ সুপার হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো তদন্ত কাজ চলছে।

দুদক ও বিএসএমএমইউর তথ্যমতে, বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিতে গত বছর ২০ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন সবকিছুতেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ‘ভাইভার আগে মিষ্টিমুখ’ শিরোনামে দেশ রূপান্তরে গত ১৩ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কমিটি করেনি। নিয়মবহির্ভূতভাবে সবই করেছে নিয়োগ কমিটি। এ কমিটির দায়িত্বে থাকা ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম ও কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির মডারেশন কক্ষের কম্পিউটারে থাকা পরীক্ষা প্রশ্ন পেনড্রাইভে করে নিয়ে যান, যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। তারা পেনড্রাইভের মাধ্যমে প্রশ্ন চুরি করে আবেদনকারীদের সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রশ্ন বিক্রির ঘটনায় নাম আসে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান পলাশ, নিউরো সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবেদ আব্বাস, কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোমিনুর রহমান ও ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাঈনুল মাহমুদ সানীর।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ করে। ওই অভিযোগ বলা হয়, চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশ্ন বিক্রির ঘটনার সঙ্গে বিএসএমএমইউর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের একান্ত সচিব ডা. মোহাম্মদ রাসেল ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. রসুল আমিন জড়িত ছিলেন। এ দুজনের বিরুদ্ধে আগেও নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নিয়ন্ত্রক কক্ষ থেকে প্রশ্ন চুরির ঘটনা ঘটলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফতেখার আলম নীরব ছিলেন, অভিযোগ তার বিরুদ্ধেও।

গত বছর ২০ অক্টোবরের লিখিত পরীক্ষায় ৩৫০ চিকিৎসক উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে যারা নিয়োগের জন্য আর্থিক লেনদেন করেছিলেন, তাদের ২৬ অক্টোবর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. রসুল আমিন মিষ্টিমুখ করান।