‘কোচদের কোচ’ ছাড়াও আরও একটি ডাকনাম রয়েছে উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার। সেটি হলো ‘এল লোকা’ বা ‘পাগল’। আর যেকোনো সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসার থাকা মানেই তা হয়ে উঠতে পারে গোটা ফুটবল বিশ্বের সারাদিনের আড্ডার খোরাক। তেমনই এক দিন আজ। কানাডার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে আগুন ঝরিয়ে দিয়ে গেছেন বিয়েলসা। কী এমন বলেছেন তিনি!
হাতাহাতি প্রসঙ্গ
আর্জেন্টাইন এ কোচ সেমিফাইনাল ম্যাচশেষে হাতাহাতির ঘটনায় খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা তাদের মা, বোন, স্ত্রী এমনকি সন্তানের দিকে তেড়ে আসছিল। আপনি হলে সে সময় কী করতেন? যারা নিজের স্বজনদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেছে তাদের আপনি শাস্তি দিতে চাইছেন। এ তো দুষ্কর্মে সহায়তা করা ছাড়া আর কিছু না।’
কনমেবল কর্তৃপক্ষের নিন্দা
এ ঘটনা প্রতিরোধ করতে না পারায় বিয়েলসা কনমেবল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলেছেন। এমনকি ঘটনা ঘটার পরও খেলোয়াড়দের স্বজনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কনমেবল বলে মত দিয়েছেন বিয়েলসা। বলেন, ‘সংগঠকরা এমন ঘটনা প্রতিরোধের মতো অবস্থায় থেকেও ব্যর্থ হয়েছেন।'
ফিফা গেট কেলেঙ্কারি
ক্রীড়াজগতের দুর্নীতি সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হলো ২০১৫ সালে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা ফিফা গেট কেলেঙ্কারি। ওই ঘটনা উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন বিয়েলসা। বিয়েলসা বলেন, ‘যখন তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, এফবিআই এর সঙ্গে মিলে ফিফা গেট কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের স্বার্থের জন্য যা প্রয়োজন মনে হয়েছে তাই করেছে দেশটি। আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমি এসব বিষয়ে মুখ খুলবো না কিন্তু খুলতে হলো। এমনকি স্কালোনি (আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি) একবার মাঠের ঘাসের প্যাডগুলো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তখন ওকেও থামিয়ে দিয়ে বলা হয়, “তুমি এ কথা একবার বলেছ, আর বলতে যেওনা”। তখন ওরও থেমে যেতে হয়েছিল। এখানে খেলোয়াড়দের কথা বলতে দেওয়া হয় না।‘
এভাবে কনমেবল, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র কাউকে নিয়েই কথা বলা বাদ দেননি এল লোকো। উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের স্বজনদের নিরাপত্তা দিতে না পারায় এবং মাঠের কন্ডিশন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে আয়োজকদের ক্ষমা চাইতেও বলেছেন বিয়েলসা।