ট্রাম্পের ওপর হামলা, মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় কতটা প্রভাব পড়বে?

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলারে এক নির্বাচনী জনসভায় হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় তার কান ঘেঁষে গুলি করা হয়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনকে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি।

ট্রাম্পের ওপর এই হামলা নির্বাচনী প্রচারণায় ফেলতে পারে ব্যাপক প্রভাব। এমনকি এই হামলা মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণাকে দিতে পারে নতুন আকার। রোববার (১৪ জুলাই) এমনই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসির নর্থ আমেরিকা এডিটর সারাহ স্মিথ বলছেন, হামলায় ট্রাম্পের আহত হওয়া এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে ফাইট বলে হার না মানার অঙ্গীকার এবং সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের মাধ্যমে মঞ্চ থেকে তাড়াহুড়ো করে চলে যাওয়ার অসাধারণ এসব ছবি কেবল ইতিহাস তৈরিই নয় – এসব ছবি আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে।

রাজনৈতিক সহিংসতার এই জঘন্য হামলাটি আগামী নির্বাচনের প্রচারণায় অনিবার্যভাবে প্রভাব ফেলবে।

হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিভিতে হাজির হয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আমেরিকায় এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনও স্থান নেই। এ সময় তিনি ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রাতে ফোনে কথা বলেন বাইডেন।

অন্যদিকে টাম্পের ওপর হামলার পর বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারাভিযান তাদের সমস্ত রাজনৈতিক বিবৃতি স্থগিত করেছে এবং নির্বাচন সম্পর্কিত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনগুলোও সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছে। এই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ না করে তার ওপর হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের পাশে থাকার দিকেই মনোনিবেশ করছেন তারা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বরাও একত্রিত হয়ে বলছেন, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও স্থান নেই। তারা বলেছেন, হামলায় ট্রাম্প গুরুতরভাবে আহত হননি, এতেই তারা বড় স্বস্তি পেয়েছেন।

যদিও এসব রাজনীতিবিদ খুব কম সময়ই একে অন্যের সঙ্গে একমত হতে পারেন।

তবে ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সমর্থক ইতোমধ্যেই এই সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দোষারোপ করছেন। এর মধ্যে একজন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে, (ট্রাম্পকে) ‘হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার’ জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে অভিযুক্ত করেছেন।

অ্যারিজোনার একজন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি বিগস বিবিসিকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন নির্বাচনী সমাবেশ, যে কোনও রাজনৈতিক প্রচারণা আজকের পর থেকে আলাদা হবে৷ অ্যান্ডির ধারণা শনিবারের পর থেকে নির্বাচনী বা রাজনৈতিক সমাবেশ ইনডোর ভেন্যুতে হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

পেনসিলভানিয়ার যে এলাকায় ট্রাম্প সমাবেশ করেছিলেন সেটি খোলা স্থান এবং আউটডোর ভেন্যু ছিল, যার আশেপাশে ছোট-খাট ভবনও ছিল। এছাড়া রিপাবলিকান এই কংগ্রেসম্যান অতীতেও রিপাবলিকানদের নিরাপত্তা সুরক্ষা কম দেওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন।