ভাষণ সম্প্রচার না করার অভিযোগ

এবিসি, এনবিসি ও সিএনএন এর লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রাইমটাইম ভাষণ প্রধান সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচার না করায় কয়েকটি মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি ভাষণটি সম্প্রচার না করায় সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলেরও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প মূলত আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সম্প্রচার নেটওয়ার্কের মধ্যে এবিসি ও এনবিসি তাদের মূল সম্প্রচার চ্যানেলে ভাষণটি সরাসরি প্রচার করেনি। একইভাবে সিএনএনও তাদের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলে ভাষণটি দেখায়নি।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসি ও এবিসি আমার এই ভাষণ সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার জন্য তাদের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।

তবে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সম্প্রচারমাধ্যমগুলো কী প্রচার করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। যদিও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হওয়ায় অতীতে প্রেসিডেন্টদের এমন ভাষণ অধিকাংশ সম্প্রচারমাধ্যম সরাসরি প্রচার করেছে।

ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তার পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প কথা বলতে পারেন। তাই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ভাষণে সংক্ষেপে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে কথা বললেও মূল জোর দেন নির্বাচনী নিরাপত্তা ইস্যুতে। তিনি দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে, এমন কিছু গোয়েন্দা নথি তিনি অবমুক্ত করেছেন। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগের মূল্যায়নে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনে চীনের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। এছাড়া ডাকযোগে ভোট, ভোটিং মেশিন এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিয়েও তিনি একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন, যার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ কয়েকজন নেতা সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে ভাষণটি সরাসরি প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি, ট্রাম্প আবারও ইতোমধ্যে খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন দাবি পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।

অন্যদিকে সিবিএস প্রেসিডেন্টের ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে। তবে সম্প্রচারের আগে উপস্থাপক টনি ডোকুপিল দর্শকদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট অতীতে যে অনেক দাবি করেছেন, তার বড় অংশই সত্য নয়। সংবাদমূল্য থাকায় ভাষণটি প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পরে প্রায় ১৫ মিনিট পর সিবিএস সম্প্রচার থামিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবির তথ্যভিত্তিক যাচাই (ফ্যাক্ট-চেক) উপস্থাপন করে।

ফক্স নিউজ ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে। যদিও ২০২৩ সালে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সমঝোতার অংশ হিসেবে নেটওয়ার্কটিকে ৭৮ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল।

এদিকে এবিসির মালিক ওয়াল্ট ডিজনি এবং এনবিসির মূল প্রতিষ্ঠান কমকাস্টকে ঘিরে বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেনডান কার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন জনগণের এমন প্রেসিডেন্টের ভাষণ সম্প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে দেখার অধিকার রয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত