টঙ্গীবাড়ির পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ

চেয়ারম্যান হত্যার আসামিদের বাড়িঘরে আগুন ভাঙচুর

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এইচএম সুমন হালদার (৪৫) হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল থেকে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়।

গতকাল রবিবার সকালে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের আলহাজ ওয়াহেদ আলী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে পাঁচগাঁও ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ মানববন্ধনে গ্রামবাসী ছাড়াও আলহাজ ওয়াহেদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, নিহতের ছোট ভাই লিমন হালদার, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জব্বার হাওলাদার, মিজান মোল্লা প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাঁচগাঁও গ্রামে গেলে বিক্ষুব্ধরা ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিলেনুর রহমান মিলন ও তার ভাই জাহানুর রহমানের বাড়িঘরে আগুন দেন। জাহানুর রহমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়া হামলাকারীরা সুমন হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ ও আরেক আসামি নুর হোসেন হালদারের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার আসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হত্যাকা-ের ঘটনায় মানববন্ধন শেষে হঠাৎ করেই আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হবে। অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই দুপুরে উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের আলহাজ ওয়াহেদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হালদার নিহত হন। পরের দিন ৮ জুলাই নিহতের ছোট ভাই ইমন হালদার বাদী হয়ে মিলেনুর রহমান মিলনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।