সর্বজনীন পেনশনসহ তিন দফা দাবি পূরণে এখনো সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় চলমান সর্বাত্মক কর্মবিরতির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা।
সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ‘সন্তোষজনক’ বৈঠকের পরদিন গতকাল রবিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের এক সভা হয় অনলাইনে। সেখানে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে একাধিক শিক্ষক নেতা নিশ্চিত করেছেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃত্বে গত মার্চ মাস থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তিনটি যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই থেকে শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেন। সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আলোচনার আমন্ত্রণ জানান। শিক্ষক প্রতিনিধিরা তাদের একটি লিখিত বক্তব্য মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। ওই সভায় আন্তরিক পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ (গতকাল) রবিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফেডারেশনের সঙ্গে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের জরুরি সভা হয়। সভায় শিক্ষক নেতারা গতকালের (শনিবার) আলোচনার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করায় সভার পক্ষ থেকে সেতুমন্ত্রীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। কিন্তু তিন দফা দাবি পূরণে এখনো সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত দেন। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ফেডারেশনের নেতাদের সুপারিশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার করে অতিদ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি ও ২০১৫ সালে প্রতিশ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুস্পষ্ট এই তিনটি দাবি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হলো। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে।
সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু আমাদের দাবি পূরণ হয়নি, তাই আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবে। তবে, গতকালের বৈঠকে আমাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তাই আশা করছি, আমাদের দাবি পূরণ হবে।’