জাবিতে ছাত্রলীগের হামলায় আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেলের নেতৃত্বে এ হামলা করা হয়। এ হামলায় দুইজন সংবাদকর্মী এবং একজন শিক্ষকও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সারা দেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে ওই বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল বের করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে ছাত্রছাত্রীদের ১৩টি হলের সামনে দিয়ে বটতলা এলাকায় পৌঁছালে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামানের (সোহেল) নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামানের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বটতলা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম (মেঘ), বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ (জিতু), যুগান্তর পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেকুর রহমান, শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আউলাদ হোসেন প্রমুখ।

আহত সাংবাদিক মোসাদ্দেকুর রহমান  বলেন, ‘তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অপ্রত্যাশিত। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল বলেন,‘ আমরা কারো ওপর হামলা করিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। আন্দোলনকারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ক্যাম্পাসে অনায্য কিছু হলে আমরা তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।’