জাবিতে ছাত্রীদের ছবি তোলার অপরাধে মুচলেকায় মুক্তি সাবেক নেতার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়ে মুচলেকায় মুক্তি পেয়েছেন সাবেক যুবদলের এক নেতা। শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের শর্তে তাকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

ভুক্তভোগী ও নিরাপত্তা অফিস জানায়, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন।

লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, আমি বটতলায় খাওয়া-দাওয়া করেছি। খাওয়া-দাওয়া করার পরে আমি কিছু মেয়ের গোপনে ছবি তুলেছি। এই ছবিগুলো আমার তোলা ঠিক হয়নি। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আর কখনও আমি ছবি তুলতে ক্যাম্পাসে আসব না। এমনকি পুরো বাংলাদেশে আর কখনও কারও অনুমতি ছাড়া এভাবে ছবি তুলব না।

এসময় দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ার (মদ) উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিয়ার (মদ) দুটি ধ্বংস করা হয়।

এবিষয়ে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সেলিম রেজা বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

এবিষয়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড.মো.আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বটতলায় এসেছিলেন। সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ছবি তোলার অভিযোগ ওঠার পর তাকে নিরাপত্তা অফিসে আনা হয়। পরে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিঃশর্তে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত গাড়িও আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না। এসব শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত