জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন ৬ বিভাগ চালুর আগে সংকট নিরসনের দাবি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রস্তাবিত ছয়টি নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান বিভাগগুলোর একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধান এবং সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর প্ল্যাটফর্মের সংগঠক তাসনীম ইয়াসমিন তন্বী, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে তারা জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জেনেছেন যে প্রস্তাবিত ছয়টি নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে সিনেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি বিভাগই অবকাঠামো, শিক্ষক ও ল্যাব-সংকটসহ নানা সমস্যায় রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানও এখনো প্রণীত হয়নি।

তাদের দাবি, বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা ছাড়া নতুন বিভাগ চালু করা বাস্তবসম্মত হবে না। একই সঙ্গে নতুন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থাও বর্তমানে নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।

এছাড়াও স্মারকলিপিতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা কেন্দ্রগুলো কার্যকর করা, থিসিস গবেষণার জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন, বিভাগগুলোর ক্লাসরুম ও ল্যাব-সংকট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, সান্ধ্যকালীন ও উইকেন্ড কোর্স বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালুর দাবিও জানানো হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ‘আমাদের আপত্তি নতুন বিভাগ খোলার ধারণার বিরুদ্ধে নয়; আপত্তি হলো বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি চলমান বিভাগ রয়েছে। অথচ এসব বিভাগের জন্য কোনো সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান নেই। অনেক বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব, সেশনজট ও ইয়ার গ্যাপের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। একই সঙ্গে সিসিএসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের অটোমেশনেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিদ্যমান বিভাগগুলোর এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে নতুন ছয়টি বিভাগ চালুর উদ্যোগকে তারা অযৌক্তিক মনে করেন।

শুধু একাডেমিক নয়, অবকাঠামোগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। ক্যাম্পাসে এখনও আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই, নিজস্ব ছাপাখানা নেই, আর উন্নয়ন কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ, মানুষ এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।

তারা বলেন, প্রশাসন আগে একটি সমন্বিত একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করুক। বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি), আইন বিভাগসহ বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের আগে নতুন ছয়টি বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত