সাধারণত বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা বিভিন্ন লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার পরিবর্তে ক্রেডিট কার্ড বেশি ব্যবহার করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাজার-সদাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা ও পণ্যমূল্য পরিশোধ করেন। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০ শতাংশ খরচ কমিয়েছেন দেশে বসবাসরত বিদেশিরা। এই লেনদেন এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন ১৬৯ কোটি টাকা, যা গত এপ্রিল মাসে ছিল ১৯৯ কোটি টাকা। লেনদেন কমেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৩ সালে মে মাসে বিদেশিরা লেনদেন করেছিলেন ২১০ কোটি টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
তথ্য বলছে, গত মে মাসে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকরা দেশে সব থেকে বেশি খরচ করেছেন। প্রায় ৪০ কোটি টাকা বা ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা খরচ করেছেন ১৫ কোটি, ভারতের নাগরিকরা খরচ করেছেন ২০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ানরা ৬ কোটি, কানাডার নাগরিকরা ৫ কোটি, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা ৮ কোটি, জাপানিরা ৭ কোটি, ইউএইর নাগরিকরা ৬ কোটি, চীনারা ৬ কোটি, সৌদি নাগরিকরা ২ কোটি, ইতালির নাগরিকরা ২ কোটি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা খরচ করেছেন ৪১ কোটি টাকা।
গত মে মাসে দেশে বিদেশিরা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ করেছেন ৬৭ কোটি, পরিবহনে ৩৯ কোটি, নগদ উত্তোলন ৩৩ কোটি, ফার্মেসিতে ২ কোটি, কাপড় কেনায় ১২ কোটি, ব্যবসায় সেবা বাবদ ২ কোটিসহ সরকারি সেবা, প্রফেশনাল সার্ভিস ও ইউটিলিটি বাবদ ১৬৯ কোটি টাকা খরচ করেছেন। বিদেশি নাগরিকরা ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ১০১ কোটি টাকা, মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে ৬৭ কোটিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ২ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন।
অন্যদিকে গত মে মাসে বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছে ৪৫৬ কোটি টাকা। যেটা এপ্রিলে ছিল ৫০৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মে মাসে কমেছে ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছেন ভারতে ৭৬ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ কোটি টাকা। এই দুই দেশের পর বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের বেশি ব্যবহার করেছেন থাইল্যান্ডে ৩৮ কোটি ও ইউএইতে ৩৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে ৩৫ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩৩ কোটি, কানাডায় ২৭ কোটি, সৌদিতে ১৩ কোটি, মালয়েশিয়ায় ১৭ কোটি, আয়ারল্যান্ডে ১৩ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ১২ কোটি ও অন্যান্য দেশে ৬৪ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশে খরচের ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ করেছেন ১২১ কোটি, খুচরা দোকানে ৭৯ কোটি, নগদ উত্তোলন ২৬ কোটি, ফার্মেসিতে ৫৯ কোটি, কাপড় কেনায় ৩৭ কোটি, পরিবহনে ৪০ কোটি, ব্যবসায় সেবা বাবদ ৩৫ কোটি, সরকারি সেবায় ২৬ কোটি, প্রফেশনাল সার্ভিস ১৮ কোটি ও ইউটিলিটি বাবদ ১১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে এপ্রিলের চেয়ে মে মাসে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। গত মে মাসে দেশের ভেতরে ২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এপ্রিলে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মে মাসে কমেছে ৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪০১ কোটি, খুচরা দোকানে ৩৭৬ কোটি, ইউটিলিটি বাবদ ২৪৫ কোটি, নগদ উত্তোলন ১৯৩ কোটি, ফার্মেসিতে ১৫১ কোটি, কাপড় কেনায় ৩১১ কোটি, ফান্ড স্থানান্তর ৯০ কোটি, পরিবহনে ৮৭ কোটি, বিজনেস সার্ভিস ৫৩ কোটি, প্রফেশনাল সার্ভিস ১৯ কোটি ও সরকারি সেবায় ১১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া দেশের ভেতর মে মাসে ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৯৭০ কোটি, মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪৮৬ কোটি, অ্যামেক্সের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ২৮১ কোটি, ডিনার্সের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ২ কোটি ও কিউক্যাশ প্রোপ্রাইটরের মধ্যে খরচ হয়েছে ১ কোটি টাকা।