চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ৩০ বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশিষ্টজনরা বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা ছাত্র নিহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশের পাশাপাশি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকা-ের বিচার দাবি করছি।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ, বেদনা ও পরিতাপের সঙ্গে বর্তমান ক্রমবর্ধমান সংঘাতময় পরিস্থিতি লক্ষ করছি এবং এর আশু সুরাহা কামনা করছি। সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ছাত্রসমাজ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অভিন্ন মত রয়েছে। হাইকোর্টের রায়েও সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কার-সাধনে অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সংস্কারের বিভিন্ন দিক বিচার-বিবেচনা ও আলোচনা এই মুহূর্তে বিশেষ জরুরি। পারস্পরিক মতামত গ্রহণ ও মতবিনিময় প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাপেক্ষে চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজের দিক থেকে সুচিন্তিত সংস্কার প্রস্তাবনা যেমন আমরা কামনা করব, তেমনি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞজনের পরামর্শেরও আমরা প্রত্যাশী।
তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব পক্ষের এ আলোচনা প্রস্তাবনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সরকার ও আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এর সৃজনশীল বাস্তবায়নের অনেক উদাহরণ তারা তৈরি করেছে। ক্ষুব্ধ পরিবেশে এর ব্যত্যয় যারা ঘটায় তারা ছাত্রসমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে না। কোটা সংস্কারের পক্ষে আদালতের অভিমত ও জাতীয় ঐকমত্য সবাই মিলে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এ লক্ষ্যে সবার উদ্যোগী ও সহনশীল ভূমিকা এবং অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ আমরা প্রত্যাশা করি।
বিবৃতি দেওয়া ৩০ জন নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নির্মলেন্দু গুণ, সুজেয় শ্যাম, ডা. সারওয়ার আলী, আবেদ খান, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী বীরপ্রতীক, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, খুশি কবীর, হারুন হাবীব, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, অধ্যাপক শফি আহমেদ, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, ম. হামিদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গোলাম কুদ্দুছ, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, শ্যামল দত্ত, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, লাকী ইনাম, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ, সঞ্জীব দ্রং, আহকাম উল্লাহ।
হামলায় নিন্দা, শাস্তির দাবি ১১৪ নাগরিকের : কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের অন্য ১১৪ জন নাগরিক। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামলা, কয়েকজনকে হত্যা করা এবং শত শত শিক্ষার্থীকে আহত করা দেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে জরুরি বিভাগে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য।’ বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক সি আর আবরার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, পরিবেশকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বপন আদনান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ।