কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলন করছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের শুরু থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তেমন একটা দেখা না গেলেও গতকাল মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। প্রথমবারের মতো রাজপথে নামতে দেখা গেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার কারণেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকায় রাজধানীর নতুনবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা গেটে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এআইইউবি, আইইউবিসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে গতকাল দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সকাল থেকেই আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে মতিঝিলগামী যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। ঢাকার কলেজগেট এলাকায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা, বনানী এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় দনিয়া কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভ করেছেন। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেন।
এ ছাড়া, ঢাকার বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন সাভারের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মুন্সীগঞ্জে প্রেস ক্লাবের সামনে
মানববন্ধন করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ কলেজ ও রামপাল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারামসহ বিভিন্ন কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে নগরীতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নামেন।
রাজপথে মেডিকেল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা : সারা দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল থেকেই নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করেন। সড়কও অবরোধ করা হয়েছে কোথাও কোথাও। তথ্যমতে, প্রায় ৩০টি মেডিকেল ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে।
সমাবেশ থেকে কোটা সংস্কারের পাশাপাশি ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাড়াও মুগদা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এবং সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও বরিশাল সরকারি নার্সিং কলেজ, রাজশাহী বিভাগে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, রংপুর বিভাগে রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, খুলনা বিভাগে যশোর মেডিকেল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং সিলেট বিভাগে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও সুনামগঞ্জের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার কারণে সারা দেশের ছাত্রসমাজ জেগে উঠেছে। হামলা করে আন্দোলন থামানো যাবে না। তারা অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবেন। তবে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন স্কুল-কলেজ এবং বেসরকারি ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।