নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার শিকার হওয়ার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশটির সিক্রেট সার্ভিস। সারা বিশ্বকে গণতন্ত্র, নিরাপত্তার ছবক দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা পর প্রশ্ন উঠেছে তাদের ভূমিকা নিয়েও। পুরো ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে থাকলেও সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালককে ডেকেছে প্রতিনিধি পরিষদ। পরিষদের একটি কমিটির সামনে তাকে দিতে হবে না প্রশ্নের জবাব।
বিবিসি বলছে, জবাবদিহি করার দাবির মুখে সিক্রেট সার্ভিস বলছে, কী ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল তা উদঘাটন করার চেষ্টা করছে তারা। তাছাড়া, কী করে এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো যায় এমনকি পুনরাবৃত্তিও রোধ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে তারা। তবে এর মধ্যেই সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক কিম্বার্লিকে তলব করা হয়েছে আগামী ২২ জুলাই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। বিশেষজ্ঞরাও এরই মধ্যে সিক্রেট সার্ভিসকে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ট্রাম্পের ওপর হামলা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের তোলা প্রশ্নের কয়েকটিই আবার হতে পারে প্রতিনিধি পরিষদে। তারমধ্যে পাঁচটি প্রশ্ন নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে বন্দুকধারীর ছাদ আগে থেকে সুরক্ষিত করা হয়নি কেন? সন্দেহভাজন বন্দুকধারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস কীভাবে ট্রাম্পের থেকে ১৩০ মিটার (৪৩০ ফুট) দূরে অবস্থিত সমাবেশের কাছে একটি ভবনের ছাদে প্রবেশ করেছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিক্রেট সার্ভিসের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ বলছে, ভবনের ছাদ বিশেষ করে অনিরাপদ ছিল। ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারও ছাদের ওপরে অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।
দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি এসেছে সেটি হলো বন্দুকধারী সম্পর্কে সতর্কবার্তা কি দেওয়া হয়েছিল? গুলিবর্ষণের ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এবং অন্যরা স্পষ্টই ক্রুকসকে রাইফেল হাতে ছাদে হামাগুড়ি দিতে দেখেছেন। তারা পুলিশকে খবর দিলেও সন্দেহভাজন হামলাকারী কয়েক মিনিট ধরে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করতে থাকে এবং পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিজেই মারা যায়। আইনপ্রয়োগকারী এক কর্মকর্তা বলেছেন, ক্রুকস কর্মকর্তাদের রাডারে ছিলই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা সিএনএনকে বলেন, ইভেন্ট ম্যাগনেটোমিটারের কাছে ক্রুকসের সন্দেহজনকভাবে আচরণের তথ্য সম্ভবত সিক্রেট সার্ভিসকে জানানো হয়েছিল।
তৃতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে সিক্রেট সার্ভিস কি স্থানীয় পুলিশের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল ছিল? বন্দুকধারী যে জায়গা থেকে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ সেটিকে বলছে, সেকেন্ডারি রিং। ওই স্থানে সিক্রেট সার্ভিস নয় বরং স্থানীয় পুলিশ ও রাজ্য কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের সাবেক এক এজেন্ট বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা তখনই কাজ করে যখন কোনো বিপদ দেখা দিলে কী করতে হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে।
চতুর্থ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রচার সমাবেশ কি যথাযথভাবে আয়োজন করা হয়েছিল? নির্বাচনকে সামনে রেখে আমেরিকার রাজনীতি যখন সরগরম, তখনই নির্বাচনী প্রচারণায় নিরাপত্তা বাহিনী সিক্রেট সার্ভিস টিম তুলনামূলক অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় লোকবল, সাজ-সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিক্রেট সার্ভিসের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলা জেসন শ্যাফেটজ ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে বলেন, হুমকির ঝুঁকির ক্ষেত্রে ট্রাম্প বা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে বড় আর কোনো ব্যক্তিত্ব নেই। কিন্তু পেনসিলভানিয়ার সমাবেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে সেটা মনে হয়নি।
পঞ্চম প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পকে কি যথেষ্ট তাড়াতাড়ি মঞ্চ থেকে নামানো হয়েছিল? ট্রাম্পের ঢাল হয়ে যে এজেন্টরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা ঘটনার পরপরই তাকে নিরাপদভাবে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন। সাবেক সিক্রেট সার্ভিস কর্মী রবার্ট ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা উচিত সে সম্পর্কে কোনো সঠিক পূর্বপরিকল্পনা না থাকার পরও এজেন্টরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছেন।