ফিফার শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন শুনেই ক্ষেপে গেলেন সালাউদ্দিন

তার চার মেয়াদে ফুটবল পৌঁছে গেছে তলানীতে। এশিয়া দূরে থাক, দক্ষিণ এশিয়ায় খাবি খেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সর্বনিম্ন অবস্থান ছোঁয়াও তার আমলেই। অনিয়ম, জালিয়াতি, দুর্নীতির জন্য বারবার দেশের ফুটবল কলঙ্কিত হয়েছে তার আমলেই। তার ছত্র্বছায়ায় থেকে অনিয়ম, জালিয়াতির রাজ্য কায়েম করেছিলেন ফিফার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। তার চার মেয়াদের কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য গুণতে হয়েছে জরিমানা। এর বাইরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার হয়েছে নানা মেয়াদের সাজা ও আর্থিক দন্ড। এখনও ফিফার অভিযোগ আঙুল তার ওপর উঠেনি ঠিক। তারপরও ফুটবল অঙ্গনে জোর গুঞ্জন পঞ্চম মেয়াদের মতো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চলেছেন কাজী সালাউদ্দিন।  যার নাকের ডগায় বাফুফে অনিয়মের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে, সেই তিনি আবার এই শাস্তি জাতীয় বিষয়গুলো একেবারে সহ্যই করতে পারছেন না। বুধবার নির্বাহী কমিটির সভা শেষে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠতেই ক্ষেপে যান সালাউদ্দিন। আবারও বলে ফেলেন বেফাঁস কথা।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন আবার যদি ফিফার শাস্তি আসে কারও ওপর, সেক্ষেত্রে কি সেই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন? সালাউদ্দিন প্রশ্ন শুনেই উচ্চস্বরে বলে ওঠেন, 'আমি ফিফার পেটের ভেতরে বসে নেই যে এ প্রশ্নের উত্তর দেবো।' সেই সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করেন নিয়মিতই তো ফিফার খড়গ নেমে আসছে। তখন বাফুফে সভাপতি বলেন, 'রেগুলারতো দেখিনি, আমরা তো একটা দেখেছি।' তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, একটি নয়, শাস্তি হয়েছে অনেকেরই। তখন তিনি জবাব দেন, 'ওটা একই জিনিস। ফিফা ব্রেক ইন করে দিয়েছিল। এখন সেটা বন্ধ হয়েছে কি না, সেটা ফিফা বলতে পারবে। আপনি ফিফাকে জিজ্ঞেস করুন।'

এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয় পঞ্চম মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন কীনা? এর জবাবে সালাউদ্দিন বলেন, 'আমি কি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য! এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আর এটা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন।'

ফুটবলকে পথে বসিয়ে আবারও মসনদ দখলের পায়তারা করছেন সালাউদ্দিন ও তার সঙ্গী সাথীরা। তাদের খায়েশ কতটা মিটবে সেটা সময়ই বলে দিবে। ২৬ অক্টোবর জানা যাবে ফুটবলের ভবিষ্যত যায় কাদের হাতে।