চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সংবাদ সম্মেলন না করে আজ বৃহস্পতিবার ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত অর্থবছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অথচ পুরো ২০২৩-২৪ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাই ছিল ১০ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত প্রকৃত প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশে। মুদ্রানীতি বিবরণী অনুযায়ী, সরকারি খাতে ঋণের আনুমানিক প্রবৃদ্ধি হবে ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, এসডিএফের হার ৭ শতাংশ ও এসএলএফের হার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি ব্যয়ের জন্য নতুন অর্থ ছাপানো থেকে বিরত থাকবে। তবে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে বলে মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিভিন্ন পর্যালোচনার পর মুদ্রানীতি কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বর্তমান কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমলেও তা অব্যাহত রয়েছে।