কারফিউর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোশাক কারখানা বাদে দেশের সব অঞ্চলের পোশাক কারখানা বন্ধ রেখেছে বিজিএমইএ। পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ক্রেতা হারানোর শঙ্কায় রপ্তানিকারকরা।
বাংলাদেশের পোশাকের ক্রেতারা বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের। এ অঞ্চলের ক্রেতারাও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ক্রেতারাও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছেন না।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি ম্যানুয়ালি করা হলেও রপ্তানিতে কোনো ধরনের সহায়তা করতে পারছে না। ফলে রপ্তানিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিজিএমইএ গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় দাবি করেছিল, দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।
জানা গেছে, পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সুইডেনভিত্তিক এইচঅ্যান্ডএম। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য কেনে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ কোটি ডলারের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে আছে।
পোশাক খাত বিদেশি মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এ খাত থেকে মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশ আসে। রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিদেশি মুদ্রা আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। এছাড়া বিদেশি ক্রেতা হারানোর শঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সারা বিশ্বে যখন ব্যবসার সংকট চলছে তখন দেশে এই ধরনের পরিস্থিতি আমরা আশা করিনি। ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে দুটো অনুরোধ আমাদের কারখানাগুলো যদি আমরা চালু রাখতে পারি তাহলে আমাদের শ্রমিকরা একটা সুশৃঙ্খল পরিবেশে কারখানার ভেতরে থাকবে। কারখানা বন্ধ থাকার কারণে তারা যদি বাইরে থাকে তবে বিভিন্নজন তাদের ব্যবহার করার সুযোগ পায়। আমরা মনে করি শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকাটা নিরাপদ।
এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে আমদানি রপ্তানি সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কারণ আমাদের এখন সমস্ত কিছু ডিজিটালাইজড। অনলাইনে বায়ারদের ইনভয়েজ দিতে হয়। অনলাইনে যোগাযোগ করতে হয়, আমাদের অনুরোধ, স্বল্প পরিসরে হলেও ইন্টারনেট চালু রাখার।