নগরীর সড়কে বিকেল পর্যন্ত পড়ে থাকে আবর্জনার স্তূপ

খুলনা শহরের বিভিন্ন সড়কের একটি অংশ জুড়ে ময়লা ফেলে নগরবাসী। এতে তৈরি হয় বড় বড় ময়লার স্তূপ। বিকেল পর্যন্ত তা স্তূপ আকারেই পড়ে থাকে। ফলে দিনভর পথচারীদের সহ্য করতে হয় দুর্গন্ধ।

সড়কের এক পাশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলেও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার। এই আয়তনে ৩১টি ওয়ার্ড রয়েছে। যেখানে বসবাস করে ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষ। বসবাসকারী এসব মানুষের গৃহস্থালি থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হয় এক হাজার টন বর্জ্য, যা সড়কের নানা স্থানে স্তূপ করে রাখে নগরবাসী। তবে অনেক ওয়ার্ডে এনজিওর মাধ্যমে বাড়ি থেকেও ময়লা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এই ময়লা ভ্যানযোগে এনে রাখা হয় ৯টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন ও সড়কের ওপরই।

ভুক্তভোগীরা জানান, শহরের শের-ই-বাংলা রোড, পিটিআই মোড়, নতুনবাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় ময়লার স্তূপ জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। অনেক সময় গাড়ি জটে পড়ে তৈরি হয় বড় ধরনের যানজট।

নগরের বাসিন্দা এস এম কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল কাফি অভিযোগ করে বলেন, গৃহস্থালির ময়লা বাড়ির সামনে সড়কের ওপর নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। কিন্তু এই ময়লা প্রতিদিনই অপসারণ করা হয় না। অন্যদিকে ওয়ার্ডপর্যায় থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোয় ময়লা এনে রাখা হয়। পরে ট্রাকে করে সেই ময়লা চূড়ান্ত স্টেশনে (রাজবাঁধ) ফেলতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় নগরবাসীকে সহ্য করতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

তিনি আরও বলেন, পথ চলতে গিয়ে দুর্গন্ধে অনেক সময় বমি চলে আসে। লোকজন নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করে। তাই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই এই ময়লা অপসারণের দাবি জানান তারা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর পিটিআই মোড় হয়ে হেঁটে বিদ্যুতের কার্ড কিনতে যান নগরীর বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুপুর হয়ে গেছে অথচ ময়লা অপসারণ হয়নি। সড়কের অর্ধেক পর্যন্ত ময়লা জমে আছে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই স্থান দিয়ে কোনোভাবেই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না।’

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘সব পয়েন্টে প্রতিদিনই কাজ হয়। আমার জানামতে, কোনো পয়েন্টেই ময়লা পড়ে থাকে না। তারপরও এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে দ্রুত অপসারণের চেষ্টা করা হবে।’