জামালপুর হাসপাতাল ভবন

ঝরছে ছাদের পলেস্তারা, বেরিয়ে আসছে রড 

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে আসছে রড। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিমের বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে ফাটলের দাগ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে বিভিন্ন কক্ষের মেঝে ভিজে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকছেন চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীসহ রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ১৯৬১ সালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ৫০ শয্যার একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলে ৫০ শয্যার একতলা ভবনটিকে বহির্বিভাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ২০২১ সালে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই বহির্বিভাগের সব চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশেই বহির্বিভাগের একতলা ভবনটি। বহির্বিভাগের গেট দিয়ে ঢুকতেই দেয়ালে ফাটল। পুরো বহির্বিভাগের ছাদসহ সব জায়গায় দেখা মেলে ফাটলের। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ায় রড ও ইটের সুরকি দেখা যাচ্ছে। দেয়ালের বিম জুড়ে বড় বড় ফাটল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোগীরা এই ভবনেই অবস্থান করেন। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

বহির্বিভাগে জামালপুর পৌরশহরের কম্পপুর এলাকার ছালমা আক্তার চিকিৎসকের জন্য শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভবনটি একদম নিচু ও জরাজীর্ণ। বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন লোকজনের মাথায় ছাদ থেকে পলেস্তারার বড় টুকরা খসে পড়ছে।’

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘অন্য কোনো উপায় না থাকায় ওই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছেন।’

ভবনটির স্থায়িত্ব ছিল ৫০ বছর জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেই হিসেবে ২০১১ সালে ভবনের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। অনেকবার ভবনটির সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। রঙ বা সিমেন্ট কিছুই ছাদে থাকে না। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটলও রয়েছে।’