ঢাকায় ১ দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার ৬০১

কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীতে আরও ৬০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীর ৫০টি থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দেড় হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩০টি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের ১১টি জেলায় আরও ৫৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সাত জেলায় শতাধিক গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। একইদিন পর্যন্ত ঢাকায় ৫১৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানা গেছে।

গতকাল গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে শতাধিক অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে ১৫ জনের।

ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা গ্রেপ্তার করছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিযোগ করে দেশ অচল করার নির্দেশনা আসে লন্ডন থেকে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন আর রশীদ।

আদালতে স্বজনদের আহাজারি : খিলগাঁওয়ের ভূঁইয়াপাড়া এলাকা থেকে সোমবার রাত ১টায় ঘুম থেকে তুলে আটক করা হয় দিনমজুর আপনকে (১৮)। তারা মা নাসিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, আপন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করে। সে বাসাবাড়িতে কাজ করে। গত শনিবার দুপুরে সংঘর্ষে গুলি খাওয়া এক যুবকের পায়ের ছবি তুলেছিল আপন। এটাই তার অপরাধ। কোনো মিছিলে বা কোনো ধরনের অপরাধ না করেও তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ আপনের মায়ের।

শনির আখড়া এলাকা থেকে দুই ভাই পারভেজ আহমেদ বিল্লু (৩০) ও তার ছোট ভাই পান্থকে (২২) আটক করে থানা পুলিশ। বড় ভাই বিল্লু ইন্টারনেটের কাজ করেন ও ছোট ভাই পান্থ মোবাইলের দোকানে কাজ করেন। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ও সহিংসতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন খালা জোসনা আক্তার। রাস্তায় কারফিউ দেখতে গিয়ে বাড্ডা এলাকায় আটক হয় শান্ত (১৫) নামে এক কিশোর। তার মা সাজেদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলে একটি রডের দোকানে কাজ করে। এ সময়ে দোকান বন্ধ থাকায় শান্ত রাস্তায় গিয়েছিল। তখন তাকে আটক করে। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। কিন্তু তাকে আটক করেছে, মারধর করেছে। জানি না তাকে ছাড়বে কি না।’

একইভাবে মহাখালী থেকে আটক হয় হৃদয়ও (২১)। ছেলের দুধ কিনতে বাসার নিচের দোকানে গেলে তাকে আটক করে হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

হাসান আরাফাত আক্কাস (১৫) রাজধানীর শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকে শেরেবাংলা এলাকায়। সংঘর্ষের সময় গত শুক্র, শনি ও রবিবার ঘরবন্দি থাকলেও সোমবার রাস্তায় বের হয়েছিল। বাসার সামনে সহিংসতায় পুড়ে যাওয়া রাস্তার কয়েকটি ছবি তুলতে গেলে তাকে আটক করা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। গতকাল তাকে আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। আক্কাসের বাবা জয়দর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্কুল পড়া ছেলেটাকেও ধরে নিয়ে আসছে ওরা। ছেলের মুখের দিক তাকানো যায় না। মনে হচ্ছে অনেক মারধর করা হয়েছে। শুনেছি রাজনৈতিক মামলা দিয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে রাজনীতির কিছুই বুঝে না।’

বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আশিক (১৫)। সোমবার নিজ বাসা নাখালপাড়া এলাকায় বের হলে তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ তার মা মোর্শেদা বেগমের। তিনি বলেন, কারফিউ কী, তা জানে না আশিক। কারফিউ দেখতে বাসার সামনে বের হলে তাকে আটক করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে যা বলল ডিএমপি : নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটকের বিষয়ে নানা অভিযোগ আসছে, এমন প্রশ্নে ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, সহিংসতায় ডিএমপির থানাগুলোতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। সন্দেহভাজনদর গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করছে তারা জড়িত নয়। কিন্তু যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের কোনো না কোনো প্রমাণসহ আটক করা হয়।

থানার গেটে স্বজনদের ভিড় : গতকাল ডিএমপির বিভিন্ন থানার সামনে স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে। থানার পাশে বসেই কান্না করছেন আটকৃতদের স্বজনরা। বাড্ডা থানায় গতকাল ৬০ জনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। তখন তাদের স্বজনরা থানার গেটে ভিড় করে আটককৃতদের নিরপরাধ বলে দাবি করেন।

সরেজমিনে আদালত প্রাঙ্গণ : সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল বেলা ১১টা থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আসতে থাকে আটককৃতদের স্বজনরা। ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের গেটের সামনে ভিড় করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। কারও বাবা, কারও ভাই, কারও ছেলেমেয়ে আটক করা হয়েছে। থানা থেকে বলে হয়েছে কোর্টে গেলে খোঁজ মিলবে, এমন আশায় সবাই অপেক্ষা করছেন আদালত গেটে। অনেক বলছেন, এক পলক দেখেছি আবার অনেকে বলেছেন, দেখার আগেই কোর্টের ভেতরে গাড়ি চলে গেছে। প্রিজন ভ্যানভর্তি আসামি আসতে থাকে থানাগুলো থেকে। প্রতিটি ভ্যানেই প্রায় ৪০-৫০ জন আসামি নিয়ে আসতে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে উত্তরায় চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন মাইলস্টোন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আলিফ হাসান রাহত (২২)। তার বাবা রাইহিজ উদ্দিনের অভিযোগ, ছেলেকে নিয়ে আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পথে তাদের আটক করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। ওইদিন রাত ৩টায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাহাতকে আটক করে রাখা হয়। কিন্তু গত শনি, রবি ও সোমবার তিন দিনেও রাহাতের কোনো হদিস মেলেনি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘থানা থেকে আদালতে আসতে বলছে। তাই আজ (গতকাল) আদালতে এসেছি। কিন্তু আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’

হামলার নির্দেশনা আসে লন্ডন থেকে : ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন আর রশীদ বলেন, ‘কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন হয়েছে, সেখানে ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা জানতে পেরেছি, এই হামলার পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছে। বিশেষ করে হামলার নির্দেশনা লন্ডন থেকে এসেছে।’

৫ শতাধিক আসামি কারাগারে : আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, কোটা আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতার মামলায় পাঁচ শতাধিক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ১৫ আসামিকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) জন্য পাঠানোর আদেশ হয়েছে। ঢাকার মিরপুর, রামপুরা, রূপনগর, যাত্রাবাড়ী থানাসহ বেশ কিছু থানার মামলায় গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মো. মইনুল ইসলামের আসামিদের কারাগারে পাঠানো ও রিমান্ডের এ আদেশ দেয়।

১১ জেলায় গ্রেপ্তার ৫৭৮ : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল চট্টগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, দাউদকান্দি (কুমিল্লা), টাঙ্গাইল, নাটোর, সিংড়া (নাটোর), ময়মনসিংহ, বগুড়া, লক্ষ্মীপুর, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার ১৭ থানা এলাকা থেকে ৫৬ এবং নগরের ১৬ থানা এলাকা থেকে ৪৯ ‘নাশকতাকারীকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগর-পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) কাজী মো. তারেক আজিজ গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে দেশ রূপান্তরকে জানান, ১৬ থেকে ১৯ জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় ১৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি প্রায় ৩৬ হাজার। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩২৭ নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশ বলছে, এজাহারভুক্ত আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১৬ ও ১৮ জুলাইয়ের সহিংসতায় চার মামলায় শতাধিক শিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকশজনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ২৫ জন।

সদর থানার ওসি এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। পুলিশি তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তিন দিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম।

টাঙ্গাইলে ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তত ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুর। মামলাগুলোয় ৩৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২ হাজার ৪৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নাটোরে গত সোমবার রাতে জেলা জামায়াতের মামুনুর রশিদ মোল্লা, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান, বিএনপির রফিক, সাজদার, টিটুসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিংড়ায় যুবদলের সাবেক নেতা জয়নুল আবেদিন বিদ্যুৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম বাদী হয়ে সিংড়ার ১৪ বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫৬ থেকে ৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। এ মামলায় বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম শফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুজনসহ ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৩৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি, ফুলপুর ও গৌরীপুর থানায় সাতটি পৃথক মামলায় শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানা ও শেরপুর থানায় ১২ মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনাসহ ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় বগুড়া সদর থানায় ১১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে গতকাল মামলা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাত ১২টা থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুদিনে ৩৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুর মহানগরের পরশুরাম থানা জামায়াতের আমির শাহিনুর হোসেন সোহেলসহ ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে রংপুর জেলা পুলিশ ৮, র‌্যাব ৩ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত রংপুরে আটটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরএমপির উপকমিশনার আবু মারুফ।

নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতটি থানায় অভিযান চালিয়ে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে আরও ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল এ কথা জানান।