অলিগলিতে সেই চিরচেনা গোল্লাছুট

কারফিউ জারির পর থেকেই বরিশাল নগরীর বেশিরভাগ সড়ক যেন পরিণত হয়েছে খেলার মাঠে। সড়কে চলছে না তেমন কোনো যানবাহন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইন গেম ছেড়ে শিশু-কিশোররা ঝুঁকছে গ্রামীণ খেলাধুলায়। মোবাইল ফোন স্ক্রলিংয়ে আসক্ত কোমলমতি শিশু-কিশোররা এখন নগরীর অলিগলি মাতিয়ে রেখেছে কানামাছি, বৌচি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধাসহ ক্রিকেট, ফুটবলের হৈ-হুল্লোড়ে। সরেজমিনে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ঘুরে এসব দৃশ্যই চোখে পড়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল রোড, বগুড়া রোড, বটতলা, পুলিশ লাইনস, বান্দ রোড, চাঁদমারি, আমানতগঞ্জ, স্বরোড, গোরস্তান রোড, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, কাউনিয়া বিসিক-এ এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। তবে সড়কে সেনা সদস্য, পুলিশ, র‌্যাবের টহল গাড়ি দেখা মাত্রই অলিগলিতে পালিয়ে যায় শিশু-কিশোররা।

অভিভাবকদের ভাষ্য, কারফিউ জারির পর থেকেই ঘরের মধ্যে বন্দি জীবনযাপন করছেন তারা। এই সময়ের মধ্যে শিশুরাও ঘরবন্দি হয়ে গেছে। তাদের আর ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। আর খেলার মাঠ একটু দূরে নির্দিষ্ট স্থানে হওয়ায় সেখানে তাদের সঙ্গে অভিভাবকরাও যেতে পারছেন না। তাই শিশু-কিশোররা খেলার মাঠে যেতে না পেরে বাসার সামনের সড়কেই খেলাধুলায় মেতে উঠেছে।

অন্যদিকে গত সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকেই নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সেনা সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবের টহল গাড়ির আড়ালে সড়কের মাঝখানে ও আশপাশে জমায়েত হয়ে অবসর সময় কাটতে দেখা গেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। আর প্রশাসনের টহল গাড়ি দেখা মাত্রই সড়ক থেকে সরে যান সবাই। একই অবস্থা দেখা গেছে গতকাল মঙ্গলবারও।

হাসপাতাল রোডসংলগ্ন ঝাউতলার বাসিন্দা অভিষেক বলেন, ‘কারফিউ জারির পর থেকেই বাসায় বসে একরকম অলস জীবন কাটাচ্ছি। আর বাচ্চারাও দেখছি বিরক্ত হচ্ছিল। ওদের কতক্ষণ আর আটকিয়ে রাখা যায়? ওদের সঙ্গে পারছিলাম না। তাই খেলার মাঠ দূরে হওয়ায় বাসার সামনের সড়কে ওরা আনন্দ উল্লাস, বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছিল।’

নগরীর গোরস্তান রোডের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সনিয়া আক্তার বলেন, ‘বাসার মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসতে ছিল। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে একটু সময় কাটাচ্ছি। আজ আমরা গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া কানামাছি ও গোল্লাছুটসহ বেশ কয়েক রকমের খেলা খেলছিলাম। ছোট ছোট শিশুরা এই খেলা ধুলাগুলো বেশ উপভোগ করে নিয়েছে। আমারও খুবই ভালো লেগেছে।’

নগরীর নতুন বাজারসংলগ্ন বগুড়া রোডের বাসিন্দা বিপ্লব কুমার বলেন, ‘মেইন সড়কের পাশে যেহেতু আমার বাসা। তাই বাসার সামনেই বাচ্চাদের খেলার অনুমতি দিয়েছি। আর কিছুই আমার করার নেই। কারণ ওদের নিয়ে এখন কই যাব?’

হাসপাতাল রোডসংলগ্ন গুপ্ত কর্ণারের বাসিন্দা সঞ্জিত সমদ্দার বলেন, ‘সারা দিন বাসায় বসে বিরক্ত হচ্ছিলাম। তাই বিকেল বেলা বাসার সামনে বের হয়েছি। আমার মতো আরও অনেকেই বাসার সামনে বের হয়েছে। শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েরা আনন্দ উল্লাস করছে, বিভিন্ন রকমের খেলাধুলায় মেতে উঠেছে। এসব দেখে খুব ভালোই লেগেছে। আর বাসার সামনেই যেহেতু সড়ক তাই সমস্যা হওয়ার কথা না। তবুও আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকি।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরিশাল নগরী এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নগরীর বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে সেনাসদস্য, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি চেকপোস্ট ও টহল গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে।’