বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি, উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ-গুলি 

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরের গোলারচর মোহনায় এফবি সাদ্দাম নামের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন উদ্ধার হলেও উদ্ধার তৎপরতা বাঁধা প্রদান ও উদ্ধার হওয়াদের সাথে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কোস্টগার্ডের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। পরে কোস্টগার্ডের একটি চৌকি ভাংচুর করে স্থানীয়রা। আর কোস্টগার্ডের গুলিতে হামিদ হোসেন নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

এর আগে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরের গোলারচর মোহনায় এফবি সাদ্দাম নামের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। 

সেন্টমার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৬৫ দিন মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেন্টমার্টিনের সাদ্দাম হোসেনের মালিকানাধীন  এফবি সাদ্দাম টেকনাফ ঘাটে ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ট্রলারটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এ সময় ট্রলারটিতে ৬ যাত্রী ও ৬ জেলেসহ ১২ জন আরোহী ছিলেন। ট্রলারটি দুপুর আড়াই টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরের গোলারচর মোহনায় পৌঁছলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, ঘটনার পর পরই সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে কয়েকটি ফিশিং ট্রলার এবং সার্ভিস বোট উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ নুর মোহাম্মদ সাগর সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি বলে জানান খোরশেদ আলম।

এদিকে, ট্রলার ডুবির পর উদ্ধার তৎপরতার জের ধরে কোস্টগার্ডের সাথে সেন্টমার্টিনবাসীর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেন্টমার্টিনের কয়েকজন বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ট্রলার ডুবির পর কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হলে তারা উদ্ধার তৎপরতায় সাগরে নামেনি। দ্বীপবাসী সার্ভিস বোট ও ফিশিং ট্রলারে করে উদ্ধারকাজে যাওয়া চেষ্টা করলে কোস্টগার্ড বাঁধা দেয়। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ১১ জনকে উদ্ধার করে ঘাটে ফিরলে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের সাথে ছবি তোলার চেষ্টা করে। এ সময় দ্বীপবাসীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কোস্টগার্ডের চৌকিতে হামলা করে ভাংচুর করে। এসময় কোস্টগার্ডের গুলিতে দ্বীপের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিমউল্লাহর ছেলে হামিদ গুলিবিদ্ধ হয়।

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে কোস্টগার্ডের গুলিতে হামিদের হাতে গুলি লেগেছে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারকে কেন্দ্র করে কোস্টগার্ড সদস্যদের সাথে স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে মোহাম্মদ হামিদ নামের স্থানীয় এক যুবক হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে খবর শুনেছেন।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোস্টগার্ডের সাথে দ্বীপবাসী একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।