জোয়ারে ভাঙছে বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ, জনমনে আতঙ্ক

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রবল ঢেউ এবং গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন ও বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় উপকূলবাসীরা আবারও সেই পুরোনো আতঙ্কের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

আক্রান্ত এলাকা ও জনদুর্ভোগ: বর্তমানে খানখানাবাদ, সাধনপুর, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা, শেখেরখীল ও ছনুয়া এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাঙ্গী পাড়া এলাকার বেড়িবাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের পানির যুগপৎ চাপে উপকূলের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।

উপকূলবাসীকে সুরক্ষা দিতে সরকার বাঁশখালীতে ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা ও বাঁধ সংস্কার কাজ চলছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

​নিম্নমানের উপকরণ: সাধনপুরের বৈলগাঁও এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবহৃত পাথর নিম্নমানের বলে এলাকাবাসীর দাবি। অভিযোগ রয়েছে, মজুদকৃত পাথরের সামনের সারিতে ভালো মানের পাথর রাখা হলেও পেছনে ও নিচে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত ঝুঁকি: প্রকৌশলীদের মতে, বাঁধের সিসি ব্লকের ভেতর বা পেছনে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা একটি বড় ধরনের প্রতারণা। জোয়ারের তীব্র চাপ বা জলোচ্ছ্বাসে এই দুর্বল অংশগুলো ভেঙে পড়লে পুরো বাঁধটিই চেইন-রিঅ্যাকশনের মতো ধসে পড়তে পারে, যা সরকারি অর্থের চরম অপচয়।

জানা যায় বাঁশখালীর মানুষের কাছে ২৯ এপ্রিল এক আতঙ্কের নাম। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’-এর জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলবাসী সেই বিভীষিকা ভুলতে পারেনি। এবারও বাঁধের নাজুক অবস্থা দেখে তারা তাদের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, খানখানাবাদসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সীমিত পরিসরে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান।

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ  জহিরুল ইসলাম সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বারবার বরাদ্দ দেওয়ার পরও কাজের মান ঠিক না থাকায় বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (বাঁশখালী) অনুপম পাল  বলেন, চলমান কাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ​উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন-একটি টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ। উন্নয়নের নামে এই প্রকল্পে কোনো গাফিলতি বা দুর্নীতি হলে তা উপকূলের মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত