বিনিয়োগ আয়ে ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ধারাবাহিকভাবে ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয়ও আনুপাতিক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ইসলামি ধারার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ থেকে নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে বিনিয়োগ আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও একই হারে নিট মুনাফা বাড়েনি। এ সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে ৬ শতাংশ। গতকাল ব্যাংকটির অর্ধবার্ষিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিতরণ করা ঋণ (বিনিয়োগ) থেকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের আয় হয়েছে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল ৮৮৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটি আমানতকারীদের মুনাফা দিয়েছে ৫৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এতে চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির নিট বিনিয়োগ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকা।

এদিকে বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়লেও বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে ব্যাংকটির আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি মুদ্রা বিনিময় থেকে ব্যাংকটির নিট আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। মুদ্রা বিনিময় থেকে আয় কমে যাওয়ায় কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ খাতের আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলতি প্রথমার্ধে এ খাতে আয় হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১৯৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা আয় হয়েছিল।

চলতি প্রথমার্ধে সরকারি সুকুক ও বন্ড থেকে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ৭২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ সময়ে করপোরেট সুকুক বা ইসলামিক বন্ড থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লভ্যাংশ আয় হয়েছে ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য আয় হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮০৬ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকটির পরিচালন আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এদিকে পরিচালন আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯৬ কোটি টাকা। চলতি প্রথমার্ধে বেতন-ভাতা, অবচয় ও ব্যাংক সম্পদ মেরামত এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় বেড়েছে বেশি।

চলতি প্রথমার্ধে মন্দ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণও বেড়েছে। এ সময়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চলতি প্রথমার্ধে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ কমলেও শেয়ারের মূল্য কমে যাওয়ায় সমপরিমাণের সঞ্চিতি করতে হয়েছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর ব্যাংকটির কর পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

চলতি প্রথমার্ধে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে কর পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২০৪ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৭২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।