প্রধানমন্ত্রী বললেন

উদ্দেশ্য ছিল দেশকে আবার ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশকে আবার ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করতে দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘এটা করার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে পঙ্গু করে দেশকে আবার ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা। এটাই বোধ হয় এর পেছনে তাদের ষড়যন্ত্র।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে মায়ের কোল খালি হোক, আমি চাই না। কারণ আমি তো বাবা-মা সব হারিয়েছি, আমি তো জানি হারানোর ব্যথা কত কষ্টের। আর সেই ব্যথা বুকে নিয়েই ফিরে এসেছি এই দেশের মানুষের জন্য।’

গতকাল শনিবার সকালে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে আহতদের দেখতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি এভাবে আর কেউ যেন কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক কাজী শামীম উজ্জামান আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উন্নয়নই তার লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখানে আমার তো কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি তো ছেলেমেয়েদের জন্যও কিছু করিনি। নিজেরাই চাকরি করে লেখাপড়া করেছে। আমি কতটুকুইবা তাদের জন্য করতে পেরেছি। কিন্তু আমি দেশের মানুষের জন্য করেছি। আজ অন্তত মানুষের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, তাদের কাজের সংস্থান; সবই তো করে দিচ্ছিলাম। যখন আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলাম, তখনই তাণ্ডব করে ঠিক যে জায়গাগুলো (প্রতিষ্ঠান) মানুষের সেবা করবে, সে জায়গাগুলোতে আঘাত করা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতেই এই ষড়যন্ত্র। দেশের মানুষকেই এই সহিংসতার বিচার করতে হবে। কোটা আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’র জন্যই এত মানুষ হতাহত হলো। এইভাবে আর কেউ যেন কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে, সেই দিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

আহতদের চিকিৎসার জন্য যা যা লাগবে তা করা হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, তাদের কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের ব্যবস্থা নেবে তার সরকার। যাতে তারা আবার সুস্থ মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারে। নিজেদের কাজ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সাধ্যমতো আমরা করে দেব। কিন্তু দেশবাসীর কাছে বিচার চাই। অপরাধটা কী করেছি? এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ আর কেউ যেন এই দেশে চালাতে না পারে, সেই জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী মহাখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভবন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিদর্শন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্টরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সরকারপ্রধান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত টোল প্লাজাও পরিদর্শন করেন।