মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

দেশ জুড়ে বন্ধ থাকা মোবাইল ইন্টারনেট চালু করতে আজ রবিবার সকালে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক বসবে সরকার। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কবে থেকে মোবাইল ইন্টারনেট চালু করা হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ‘ডাক ভবনে’ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে এক লাখ গাছের চারা রোপণ ‘শান্তির জন্য বৃক্ষ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই মোবাইল ইন্টারনেট খুলে দেওয়া হবে। আগামীকাল (আজ) সকাল ৯টায় আমরা মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন-এমটবের সঙ্গে বৈঠক করব। বৈঠক সন্তোষজনক হলে রবিবার-সোমবার মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক (মোবাইল ইন্টারনেট) খুলে দেওয়া হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কলেজ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেটের ফোরজি সেবা সীমিত করা হয়। পরদিন বুধবার থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) নির্দেশে সারা দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় বৃহস্পতিবার থেকে। গত ২৩ জুলাই রাতে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালুর পরদিন বাসাবাড়িতে চালু হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটসেবা। যদিও এখনো ইন্টারনেটের গতি কম। আর মোবাইল ইন্টারনেটসেবা এখনো বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট ইস্যুতে বিদেশে বসে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি। মহাখালীতে তিনটি ডেটা সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ৭০ শতাংশ সার্ভার। দেশের ৩৪টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজির) মধ্যে ১৮টির ডেটা এই তিনটি ডেটা সেন্টারে হোস্ট করা। দুই দিন পর তারা জানতে পেরেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কাঁচপুরে সাবমেরিনের কিছু কেব্ল ওপরের দিকে ছিল, সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছিল তিনটি ডেটা সেন্টার ও শত শত কিলোমিটার তার পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এজন্য শুধু টেলিকম খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সব মিলিয়ে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নাশকতা পরিকল্পিত ছিল জানিয়ে পলক বলেন, ১৮ জুলাইয়ের মোবাইল অপারেটরদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার উত্তরা, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও গাজীপুরে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ নতুন সিমকার্ড ব্যবহার হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে এসব সিম ব্যবহারকারী ঢাকায় প্রবেশ করেন। সেদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতে আঘাত আসায় এখনো কিছু ক্যাশ সার্ভার মেরামতের কাজ চলছে। হয়তো দুই-চার দিনের মধ্যে টেলিযোগাযোগ পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। দেশে থাকা চার হাজারের ওপর ক্যাশ সার্ভার ঠিক হতে সময় লাগবে। গুগলের সব ক্যাশ সার্ভার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব মো. সামসুল আরেফিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ড. মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটসেবা চালু হলেও এখনো বন্ধ রয়েছে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পলক এর আগে বলেছেন, ‘ফেসবুক তাদের নিজেদের পলিসি গাইডলাইনস নিজেরাই মেনে চলে না। তারা একেক দেশে একেক ধরনের ভূমিকা নেয়। আমাদের দেশে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে, পুলিশকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করার ছবি-ভিডিও প্রকাশ করে উসকানি ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেগুলো তারা ব্লক করছে না। এগুলো তারা ছড়িয়ে দিচ্ছে, এমনকি তারা সেই কন্টেন্টের বুস্টিং থেকে আয় করছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুক-টিকটকসহ সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে আলোচনায় বসা হবে। তারা এসে দায়িত্বশীল আচরণের প্রতিশ্রুতি দিলে, তখন আমরা বিবেচনা করে দেখব। না হলে প্রয়োজনে তাদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’