কর্মসূচি স্থগিত করে চার দাবি ববি শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও নানা বাস্তবতায় বর্তমানে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক সুজয় বিশ্বাস শুভ। তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে তাদের চার দফা দাবি রয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল শনিবার বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শুভ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শুভ বলেন, ‘গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগ তা অনুসরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলন করে আসছিলাম। কিন্তু আন্দোলন চলাকালে দেশব্যাপী নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অনেক ভাইবোন আহত ও নিহত হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কারও অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে চাইনি। নির্বাহী বিভাগ আমাদের কোটা সংস্কারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যে সমাধান করেছে, আমরা মনে করি তাতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে কিছু দাবি রয়েছে। আমাদের দাবিগুলো হলো ১. অনতিবিলম্বে হল খুলে দিতে হবে; ২. বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের মামলা বা হয়রানি করা যাবে না; ৩. শিক্ষার্থীদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্র্তৃক কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না এবং ৪. ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও খোলার পর ক্যাম্পাস নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক শুভ বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগ আমাদের কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী এবং আমাদের উপযুক্ত দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ও নানা বাস্তবতায় আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। সারা দেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা আমাদের পরবর্তী করণীয় আপনাদের জানাব। পরিশেষে, আমরা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করছি যে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার সঙ্গে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটাকে আমরা ঘৃণা করি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে থাকা মাহমুদুল আলম রাজিব, ভূমিকা সরকার ও সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।