সহিংসতায় মারা গেছেন ১৪৭ জন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত-সহিংসতায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১৪৭ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এরমধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, মৃতের সংখ্যা নির্ণয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে। নিহতদের মধ্যে কতজন নারী, কতজন পুরুষ কিংবা কোন পেশার মানুষ কতজন সেটি নির্ধারণের কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকা-, বর্বরোচিত আক্রমণ পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। আমরা এ-ও দেখেছি তারা একটা হসপিটাল পর্যন্ত রেডি রেখেছে, কেউ ইট কিংবা লাঠির আঘাতে আহত হলে তাদের সেখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আবার তাদের ভালো করে আরেক দল এসেছে। আগে থেকে একটা প্ল্যানওয়েতে আক্রমণগুলো করেছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পুলিশকে হত্যার বিভিন্ন ছবি দেখান।

পুলিশ যখন পারছিল না, তখন সেনাবাহিনীকে ডাকা হয় এবং কারফিউ জারি করা হয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রমে দেশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ক্রমেই আমরা সান্ধ্য আইন শিথিল করছি, যখন আরও স্বাভাবিক হয়ে যাবে তখন আমরা কারফিউ ওঠাতে সক্ষম হব।’

নিহতের সংখ্যা নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলছেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এ ক’দিনের আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের একটা তালিকা আমাদের কাছে আছে। এটি আমরা আরও যাচাই-বাছাই করছি। আরও যদি দু-একজনের খবর পাই তবে তা আমরা অন্তর্ভুক্ত করব। সাম্প্রতিক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৪৭ জন মারা গেছে বলে আমাদের হিসাবে রয়েছে। এখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছে, বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, বিভিন্ন জেলা থেকে নিহতের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে ৫০০, কখনো বলা হচ্ছে ১০০০। সেজন্য আমাদের কাছে যে হিসাব সেটি আমরা দিলাম।’ তিনি বলেন, ‘দোষী ব্যক্তিদের আমরা অবশ্যই শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। আমরা কাউকে এখানে ছাড় দেব না।’

ব্লক রেইড দিয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছে, শিশুদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের গ্রেপ্তার করার কথা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলা হচ্ছে। এ কাজে (সহিংসতা) টাকার বিনিময়ে কিশোর গ্যাংদের কাজে লাগানোর তথ্য আছে। পুলিশকে পৈশাচিকভাবে মেরেছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ট্রেনিং দেওয়া পুলিশ। তাদের অযথা গুলি করার দরকার হয় না। প্রতিটি গুলির হিসাব তাকে দিতে হয়। প্রতিটি মৃত্যুর জবাবদিহি তাকে করতে হয়। পুলিশ অযথা গুলি করেছে, শিশুকে মেরে ফেলেছে এগুলো সম্পূর্ণই গুজব, অপপ্রচার।’

গণগ্রেপ্তারে নির্দোষ মানুষকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে তথ্য আছে? কাকে আমরা বিনা কারণে ধরেছি। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী পুলিশকে তালিকা করে দিয়েছে, প্রত্যেকটি গ্রেপ্তার ভিডিও ফুটেজ দেখে করা হচ্ছে।’

..সরোয়ার আলম