চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকাল ৪টার মধ্যে নগরের কদম মোবারক মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কিছু শিক্ষার্থী আহত হলেও তাৎক্ষণিক তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক আকমল হোসেন ও নিউজ ২৪-এর ক্যামেরা পারসন মো.আবু জাবেদ।
এদিকে আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ।
পুলিশের এই কর্মকতার্র দাবি, এ ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর আগে সোমবার (২৯ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে নগরের জামালখানে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু সেখানে আগেই ওই এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেওয়ায় সেখানে কোনো শিক্ষার্থী জড়ো হতে পারেননি।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ১৫০ মতো শিক্ষার্থী অবস্থান নেন চেরাগি পাহাড় মোড়ে। কিছুক্ষণ পর চেরাগি মোড়ের অন্যপাশে অবস্থান নেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরাও। সেখানে তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচারসহ ৯ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেরাগি মোড়ে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও তার অনুসারী ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। তাদের মধ্যে ডোরাকাটা গেঞ্জি পরিহিত যুবলীগের এক কর্মী নারী শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড, ব্যনার ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালাগাল করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মী আন্দোলনরত কিছু শিক্ষার্থীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন।
এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিকাল ৪টার দিকে কদম মোবারক মসজিদের সামনে গিয়ে সড়ক বসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এদিকে পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিট শব্দে ছত্রভঙ্গ হয়ে একদল শিক্ষার্থী গণি বেকারির দিকে যাওয়ার সময় তাদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। পরে সেখান থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
মহিন উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা চেরাগি মোড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলাম। পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ—যুবলীগের নেতাকমীর্রা অকারণে আমাদের ওপর হামলা চালান। আমাদের দমন করতে ঘটনাস্থলে সেনা ও বিজিবি সদস্যদের আনা হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ঘটনার ব্যপারে বক্তব্য জানতে সোমবার বিকাল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আবদুল মান্নান মিয়াকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।