চবি শিক্ষার্থী রমজান শেখকে আরেক মামলায় ‘শোন এরেস্ট’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গ্রেপ্তার হওয়া রমজান শেখ নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে নগরের পাঁচলাইশ থানার হত্যাচেষ্টার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রমজান শেখ চবির  শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। 

আজ সোমবার (২৯ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজুর রহমান। 

এর আগে ১৮ জুলাই নগরের মুরাদপুর বন গবেষণাগার এলাকার বাসা থেকে রমজান এবং স্থানীয় আরিফসহ সাতজনকে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় কিছু যুবক। পরে তাকে পাঁচলাইশ থানায় দেয় তারা। দুই দিন পরে ২১ জুলাই হাজির করলে রমজানকে  কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আজ সোমবার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য রমজানকে কারাগার থেকে আনা হয় আদালতে। খবর নিয়ে জানা গেছে, রমজানকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া সেই যুবকগুলো সরকার দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

জানা গেছে, তারা বাবার নাম মোস্তফা শেখ। তিনি একজন নির্মাণ শ্রমিক। ছেলেকে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান আদালতে। রমজান কোনো রাজনীতি করেন না বলে দাবি করে মোস্তফা শেখ সাংবাদিকদের জানান, গত ১৮ জুলাই বাসা থেকে রমজান এবং একই এলাকা থেকে পাঁচ-ছয়জন ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় কিছু লোক। মোস্তফার  প্রশ্ন-পুলিশ থাকতে অন্যরা কেন আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে যাবে। দুই দিন তার ছেলে কোথায় ছিল তাও তিনি জানেন না। গত ২১ জুলাই পাঁচলাইশ থানার একটি মামলায় রমজান শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

তবে গণমাধ্যমের কাছে নগরের পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমার দাবি, গত ১৬ জুলাই বিকালে মুরাদপুর এলাকায় কোটা আন্দোলন ঘিরে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফেলে হত্যাচেষ্টার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে রমজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।