চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে একে একে ১০টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ জ্বরে পড়ে মুখে লালা আসে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করে মারা যায় মহিষ। গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করে এভাবে মহিষের মৃত্যুতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মহিষের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে গত সোমবার (২৯ জুলাই) থেকে কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়ার নেতৃত্বে এই টিমে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দোলন কান্তি দাশ ও জসিম উদ্দিন। তারা রোগ শনাক্ত করার জন্য মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া (পারকি) এলাকায় কয়েকজন খামারির বেশ কয়েকটি মহিষ অসুস্থ হয়। এসব মহিষ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নাকে-মুখে লালা আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে একেক দিন একেকটি মহিষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সর্বশেষ গত সোমবার সকালে সেকান্দর হোসেনের একটি, নাসির উদ্দিনের একটি ও জাহাঙ্গীর আলমের একটি মহিষ মারা যায়। এর আগে গত কয়েকদিনে ওই এলাকার মো. ইরফানের একটি, মো. বাবুর ২টি, নুরুজ্জামানের একটি, জাহাঙ্গীর আলমের একটি, সেকান্দর হোসেনের একটি ও আনোয়ার হোসেনের একটি মহিষ মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মো. ইরফান বলেন, ‘কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে তা নিশ্চিত হতে পারিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি বারবার জানানোর পরেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এখনো অনেক খামারির মহিষ অজানা রোগের ঝুঁকিতে আছে। এ পর্যন্ত ১০টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে।’
আরেক খামারি সেকান্দর জানান, একইভাবে তার ২টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মহিষ নিয়ে এলাকার মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার গবাদিপশুগুলো পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’