খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ের রহিমা শপিং কমপ্লেক্সের সিঁড়ির পাশে ছোট দোকানে তিনজন কর্মচারী নিয়ে জুতার ব্যবসা করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, করোনার সময় ব্যবসায় লোকসানে ৭ লাখ টাকা দেনা হন। পরে ধার-দেনা করে এই জুতার দোকানটি দেন। সেই দেনা এখনও শোধ হয়নি। ফের এখন কারফিউ ও কোটা আন্দোলনে সংকটে পড়েছেন তিনি। এ কারণে বেশ কিছুদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়। দোকান এখন খোলা থাকলেও আতঙ্কে মানুষ মার্কেটে আসছে না। ক্রেতা নেই, বিক্রিও কম। অথচ দোকানভাড়া ও কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতিদিনই খরচ হচ্ছে ২৮০০ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে বাসা ভাড়া ও পরিবারের খরচ। সব নিয়ে বেশ চাপে রয়েছেন। নতুন করে দেনায়ও জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।
শুধু ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনই নন; উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে খুলনা মহানগরী ও জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। তাই শিগগিরই এ সংকটের সমাধান চান তারা।
নগরীর স্টেশন রোডের ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানে চায়ের ব্যবসা করেন মো. সোনা। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, স্বাভাবিক সময়ে দোকানে ৩ হাজার টাকা বেচা-বিক্রি হয়। ৩ হাজার বিক্রিতে ৪০০ টাকা লাভ থাকে তার। কিন্তু কারফিউতে দোকান বন্ধ থাকায় ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছি। ধার-দেনা করে দিনগুলো পার করছি। কিন্তু এখন চা ও পান খেতে লোকজন ঠিকমতো দোকানে আসে না। চলমান এই সংকট তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ডাকবাংলো মোড়ে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ভাসমান ব্যবসায়ী মো. বারেক। তিনি জানান, চলমান পরিস্থিতি ও কারফিউ-এর কারণে ৯ দিন ব্যবসা করতে পারেননি। দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্য সময়ে প্রতিদিন তার ৩ হাজার টাকা লাভ হয়। কিন্তু এই ৯ দিনে তার ২৭ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে তার সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জলিল মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকানের কর্মচারী আব্দুল্লাহ জানান, প্রতিদিন মালিক তাকে ৫০০ টাকা দেন। কারফিউতে ৭ দিন দোকান বন্ধ ছিল। এই সাত দিন কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। ফলে ওই সাত দিনে ৩৫০০ টাকা আয় কমেছে তার। ডাল-ভাত খেয়ে কোনোমতে দিন যাচ্ছে। তবে ঘরভাড়া নিয়ে তিনি বিপাকে রয়েছেন।
আমের বড় পাইকারী বাজার খুলনার রেল স্টেশনের পাশে। বাজারের মোহাম্মাদিয়া ভান্ডারের মালিক রেজাউল হায়দার মানিক জানান, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০ জন ব্যাপারী আছেন। যারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকবোঝাই করে আম এনে তার আড়তে বিক্রি করেন। ব্যাপারীরা প্রতি ট্রাক আম (১৫ টন) ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে কেনেন। অথচ কারফিউতে ক্রেতা আসেনি। অনেক আমে পচন ধরেছে। ফলে প্রতি ট্রাক আম কমদামে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন। এতে ব্যাপারিরা সাংঘাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আম আনা বন্ধ রেখেছেন।