বাধা পেরিয়ে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষক

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ‘হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের’ প্রতিবাদ এবং হতাহতের ঘটনায় জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্ত করে বিচার দাবিতে গতকাল বুধবার দেশ জুড়ে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বহু শিক্ষক ও আইনজীবীরাও। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশের বাধা পেরিয়ে আদালত চত্বরে ঢুকেও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া, চাঁদপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ সমর্থনে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। গতকালের এই কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন জায়গায় লাঠিপেটা এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

এসব ঘটনায় অন্তত ৭১ জন আহত এবং ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ১১৯ জনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলেছে, এই ১১৯ জনের সবাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে না। সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা নেই যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে ৯ দফা দাবি আদায়ে আজ বৃহস্পতিবার ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ শীর্ষক নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল আন্দোলনের সহসমন্বয়ক রিফাত রশিদের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ‘নির্যাতনের ভয়ংকর দিন-রাতগুলোর স্মৃতিচারণ; শহীদ ও আহতদের নিয়ে পরিবার এবং সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ; চিত্রাংকন/গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরি, ডিজিটাল পোট্রের্ট তৈরি; ক্যাম্পাস ও এলাকাভিত্তিক শিক্ষক-ছাত্র-জনতা জমায়েত হয়ে গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানানো এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন (মৌন মিছিল/মশাল মিছিল/পথনাটক/মঞ্চ নাটক/প্রতিবাদী গানের আসর/মাইম) কর্মসূচি আয়োজন করার কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি নতুন কর্মসূচি পালনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গতকাল দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা কার্জন হলের সামনে জড়ো হন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা নানাদিক থেকে জড়ো হয়ে মৎস্য ভবনের মোড় থেকে মিছিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কদম ফোয়ারার সামনে পৌঁছালে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে যাওয়ার সময় মৎস্য ভবন মোড়ে মিছিলের পেছন দিক থেকে হঠাৎ দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাইকোর্টের মোড়ে দুই শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুললে আইনজীবীরা প্রিজন ভ্যানটি সামনে থেকে ঘিরে ধরেন এবং তারা শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে কার্জন হলের দিক থেকে ঢাবির সাদা দলের (বিএনপি-জামায়াতপন্থি) শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট মোড়ের দিকে এগোলে তাদের শিশু একাডেমির সামনে আটকে দেয় পুলিশ। একটু পরে বুয়েটের প্রধান ফটক থেকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি দল মিছিল নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে সেখানেই বক্তব্য রাখেন সাদা দলের শিক্ষকরা। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুলিশের সঙ্গে আটক দুই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বচসা শুরু করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ড. মো. কামরুজ্জামান প্রতিনিধি হিসেবে পুলিশের সঙ্গে গিয়ে দুপুর ২টার দিকে দুই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনেন। এরপর শিশু একাডেমির সামনে থাকা শিক্ষার্থীরা দোয়েল চত্বরে অবস্থান করে স্লোগান দেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি দল কদম ফোয়ারার দিক থেকে এসে হাইকোর্ট মোড়ের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। এ ছাড়া পুলিশের হাতে আটক হওয়া থেকে শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের ধাক্কায় পড়ে আহত হন ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। দুপুর ১টার দিকে হাইকোর্টের অদূরে কার্জন হলের বিপরীত পাশের শিশু একাডেমির সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেহরীন আমিন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি ও আমার একজন সহকর্মী নুসরাত জাহান গিয়ে বাধা দিই। পুলিশকে বললাম তার অপরাধ কী? পুলিশ বলল তাকে চেক করব। তখন আমি পুলিশকে বলি চেক করার থাকলে এখানে করেন। আমাদের ব্যাগ, ফোন চেক করেন। পুলিশ তখন বারবার বলছিল, বলপ্রয়োগ করবে। এরপর পুলিশ ধস্তাধস্তি করে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি ওই শিক্ষার্থীর হাত শক্ত করে ধরে রাখছিলাম। তখন একজন পুলিশ আমার হাত ধরে মুচড়ে দেয় ও আমাকে ধাক্কা দেয়। হাত মুচড়ে দেওয়াতে হাতে একটু বেশি ব্যথা পেয়েছি। এর বেশি বলার মতো শক্তি আমার নেই।’

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতে বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে আইনজীবীদের একটি দল ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির দিকে চলে যায়। এ সময় ঢাকার নিম্ন আদালতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল। তারা আদালতের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে রাখে। শুধু আইনজীবী ও তাদের সহকারী এবং কাজে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আদালত এলাকায় আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ছাড়া অন্য কোনো কিছু জড়িত নেই। আমাদের বিরোধ তাদের সঙ্গে, যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। অত্র এলাকায় যেন কেউ আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে, এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও যেন কেউ ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ব্যারিকেড ডিঙিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান শিক্ষার্থীদের : পুলিশি বাধা এড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট মাজার গেট ও তার আশপাশ এলাকাসহ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনের (সুপ্রিম কোর্ট বার) সামনে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী আইনজীবীরা একাত্মতা ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও আইনজীবীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারসহ বিএনপিপন্থি বহু আইনজীবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

পুলিশের বাধা ডিঙিয়ে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকরা। গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ঐক্য’র ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এতে চবির বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।

খুলনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭০ জনকে আটক করে। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা ধাওয়া দেয়। অন্যদিকে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় মূল সড়ক ও অলিগলিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে দৈনিক কালবেলার খুলনা প্রতিনিধি বসির হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল মেহেদী হাসান ও শিক্ষার্থীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আটকদের মধ্যে কারা সহিংসতায় জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ এবং যারা জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত আছে তাদের রাখব। আর যারা ইনোসেন্ট (নিরীহ), বয়স কম- এ রকম কিছু ধরা পড়েছে, তাদের ছেড়ে দেব।’

অন্যদিকে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে আহ্বান জানিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রশাসন। গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

দিনাজপুরে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

যশোরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে তিন দফা লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা জানান। এ ছাড়া অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

হবিগঞ্জ শহরে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আইনজীবীরাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।

চোখে-মুখে লাল কাপড় বেঁধে চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

রাজশাহীর আদালত চত্বরে বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে। অন্যদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে ওই এলাকা থেকে অন্তত ২০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বরিশালে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এ সময় চার সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া দুই ছাত্রীসহ ১১ জনকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গাজীপুরে লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ।

নরসিংদীতে দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পৌর শহরের উপজেলা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেন। এই কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ।

নোয়াখালীতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিক্ষোভ করেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজপথে নেমে এসে নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে শামিল হওয়ায় আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিপরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শহরের বাগবাড়ি এলাকায় আন্দোলনকারীরা সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশ সেখান থেকে একজনকে আটক করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি।