মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন শর্ত

৯/১১ হামলার দোষ স্বীকারে সম্মত অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ভয়াবহ হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা। এই ঘটনায় আটক করা হয় আল কায়দার খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালিহ মুবারক বিন আত্তাশ এবং মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাভিকে।

গত ২৩ বছর ধরে কিউবার মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি গুয়ান্তানামো বে-তে বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন তাঁরা। তবে এবার মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন শর্তে দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছে অভিযুক্ত তিনজন।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড এড়াতে দোষ স্বীকার করে বিচার কাজ শুরু করার লক্ষ্যে ৯/১১ হামলার অভিযুক্ত তিনজনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন প্রসিকিউটররা। এই চুক্তির কথা গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই চুক্তিটির বিষয়ে প্রসিকিউটররা ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছিলো।

প্রধান প্রসিকিউটর রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যারন রুয়ের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিনিময়ে এই তিন আসামি ২ হাজার ৯৭৬ হত্যাসহ সমস্ত অপরাধের জন্য দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে। এই ব্যক্তিদের বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা, যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করে হত্যা, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহেই এই তিন অভিযুক্ত তাঁদের দোষ স্বীকার করে নিতে পারে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

অভিযুক্তদের মধ্যে খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ৯/১১ হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই হামলায় হামলাকারীরা যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তর পেন্টাগনের বাইরে বিধ্বস্ত করে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

ওই হামলায় নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভেনিয়ায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

নাইন-ইলেভেন হামলার পর এর দায় স্বীকার করে নিয়েছিল আল-কায়েদা। ধারণা করা হয়, এই হামলার নেপথ্যে মূল মাথা ছিল আল-কায়দা প্রধান ওসামা-বিন-লাদেন।  ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর গুলিতে নিহত হন লাদেন।