উৎসবের সুলুক সন্ধানে যাত্রা

কথায় বলে, ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ’। পার্বণ শব্দের অর্থ উৎসব। আনন্দ অনুষ্ঠান। উৎসবের নেই কোনো সীমানা। তাকে নির্দিষ্ট করে বেঁধে রাখা যায় না কোনো স্থান বা বলয়ে। যদিও কিছু উৎসব আছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের, কিন্তু সে উৎসবও অন্যদের কাছে আদরণীয় ও সামাজিক উৎসবরূপে পালিত ও গৃহীত। উৎসব পালনে একাকার হয়ে যায় প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য। তবে আদি ও অবিকৃতরূপে নয়। অভিযোজিত হয়ে পরিবর্তিত হয়ে। এসব উৎসবের এই ক্রমবিকাশের ইতিহাস কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের থেকে কম আকর্ষণীয় নয়। কিন্তু বেদনার বিষয় হলো, এসব আনন্দ অনুষ্ঠানের উৎস, বিস্তৃতি ও অভিযোজিত রূপ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মসহ অনেকেরই নেই স্পষ্ট ধারণা। উৎসবের অভিযোজিত ও পরিবর্তিত রূপ জানা না থাকার কারণে প্রায়ই বিভ্রান্ত হই। নিজের শেকড় ও অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য এই উৎসবগুলোর ইতিহাস জানাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই জানার অভিযাত্রায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত গবেষক লেখক আতোয়ার রহমানের ‘উৎসব’ বইটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

উৎসব মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আদিকাল থেকেই আমাদের সমাজ জীবনে উৎসবে চলে আসছে। উৎসবের প্রকারও অনেক। জীবিকার উৎসব, ধর্মীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, ঐতিহাসিক উৎসব, রাজনৈতিক উৎসব, সামাজিক উৎসব ও পারিবারিক উৎসব। এসব উৎসবের উদ্ভব ও বিকাশের সামাজিক সাংস্কৃতিক রূপ ও রূপান্তর বিষয়ে স্বল্প পরিসরে লেখক আলোচনা করেছেন। উৎসবের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক প্রাণময়তার মনোরম ভাষ্য উপস্থাপিত হয়েছে এই বইয়ে। বইয়ে উল্লিখিত প্রবন্ধগুলোর শিরোনাম হলো উৎসব : কী ও কেন, উৎসবের উদ্ভব, উৎসবের শ্রেণিবিভাগ, জীবিকার উৎসব : চাওয়া এবং পাওয়া, ধর্মীয় উৎসব : ইহকাল-পরকাল, সাংস্কৃতিক উৎসব : আনন্দলোক, ঐতিহাসিক বা স্মরণ উৎসব : বিমিশ্র কথা, রাজনৈতিক উৎসব : নানাবলি, সামাজিক উৎসব-পারিবারিক উৎসব : কল্যাণমস্তু, উৎসবের রূপান্তর, উৎসবে সমাজ ও ইতিহাস, উৎসবের অবদান ইত্যাদি।

উৎসব মানুষ করে প্রয়োজনে। উৎসব মাত্রেই একটি উপজীব্য থাকে। ধরণভেদে এই উপজীব্যের ঘটে পরিবর্তন। কোন উৎসবের প্রেক্ষাপট কী ও কেনই বা উদযাপিত হয় জানতে হলে পড়তে হবে আতোয়ার রহমানের ‘উৎসব’ বইটি। নিজের জাতি, সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির সুলুক সন্ধানের এই যাত্রায় তরুণ পাঠককে স্বাগত। বইটি তোমাদের ভালো লাগবে।

সুলতানা রাজিয়া