সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু অনেকেই অল্প পরিশ্রম করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে পর্যাপ্ত পরিশ্রম যেমন করা হয় না, তেমনি সাফল্যও থাকে অধরা। ক্লান্তি দূর করার কৌশল জেনে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়। ক্লান্তি দূর করে কঠোর পরিশ্রমের কৌশল জানাচ্ছেন শ্রাবন্তী চৌধুরী
মেডিটেশন
ক্লান্তি দূর করতে মনকে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। মনের ক্লান্তিই শারীরিক ক্লান্তির জননী। যখন নেতিবাচক চিন্তাগুলো মনে আসে তখন মানসিক দৃঢ়তা কমে যায় এবং ক্লান্তির কালো মেঘ হানা দেয়। যা আমাদের মানসিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। মন দুর্বল হয়ে গেলে আমাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়। আত্মবিশ্বাস একবার হারিয়ে গেলে কাজের অনুপ্রেরণা থাকে না। আর তখনই আমরা ক্লান্ত অনুভব করি। কিন্তু নিয়মিত মেডিটেশনের অভ্যাস মনকে শান্ত করে ও দৃঢ় রাখে, ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। মনকে নিয়ন্ত্রণে ও উদ্দীপনায় ভরপুর রাখতে মেডিটেশনের বিকল্প নেই।
ভোরে বিছানা ত্যাগ
ভোরে বিছানা ত্যাগের উপকারিতা অনেক। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে সতেজ মন নিয়ে কাজ শুরু করা যায়। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস স্বাস্থ্যহানি ঘটায়, শরীর দুর্বল করে। ফলে একটু পরিশ্রমেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই সারা দিন ক্লান্তিহীন থেকে প্রচুর পরিশ্রম করতে চাইলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।
পানির অপর নাম জীবন
পানির অপর নাম জীবন এই উক্তিটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসতেছি। আমাদের শরীরে প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ পানি। তাই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। ফলে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে অল্পতেই। ঠিক এটাই ঘটে পরিশ্রমের ফলে। পরিশ্রমের ফলে ঘাম আকারে শরীরের পানি বের হয়ে যায়। শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। পানি পান করলে শরীর আবার পানির অভাব পূরণ করে নিতে পারে। ফলে ক্লান্তি দূর হয়। তাই পানি পান ক্লান্তি দূর করার একটি স্বাস্থ্যকর উপায়।
নিরবচ্ছিন্ন কাজ নয়
নিরবচ্ছিন্ন কাজ করলে শরীর বিশ্রাম পায় না। কাজের ফলে যে শক্তি ক্ষয় হয় তা পূরণ করতে পারে না। ফলে শরীর ক্লান্ত হয়, কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়। ফলে কাজের গতি বাড়ে না। কাজ থেকে যায় অসম্পূর্ণ। দেখা দেয় দীর্ঘসূত্রতা, কথার বরখেলাপসহ নানা রকম সমস্যা, যা আমাদের সাফল্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিলে কাজ সহজ ও আনন্দময় হয়।
চাই শরীরচর্চা
শরীরচর্চা শরীরে ক্লান্তিকে বাসা বাঁধতে দেয় না। অলসতাকে দূর করার জন্য শরীরচর্চা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর মাধ্যম। অলসতার কারণে আমরা অনেক মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলি। যা আমাদের লক্ষ্য হতে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সময়ের অপব্যবহার করলে ফলাফল যে আশানুরূপ হয় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে কমপক্ষে এক ঘণ্টা শরীরচর্চার করলে অলসতা দূর হবে। পাশাপাশি শরীরও সুস্থ এবং সবল থাকবে।
খাদ্য হতে হবে পুষ্টিকর
দেহে পুষ্টির অভাব হলে দেহ দুর্বল হতে থাকে। দেহ সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অল্প কাজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই দেহের ক্লান্তি দূর করতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিজাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন : ডিম, কলা, দুধ, মাছ, মাংস, শাকসবজি এবং আমিষ জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। তাহলে দেহে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চিত থাকবে এবং ক্লান্তি আসবে না।
বেশি নয় চা-কফি
চা বা কফির ক্যাফেইন শরীরকে দুর্বল করে তোলে। এ ধরনের গরম পানীয় তাৎক্ষণিকভাবে শরীরকে চাঙ্গা করে তুলেও পরবর্তী সময় ক্ষতিসাধন করে। শরীরের পানি শূন্যতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ জন্য চা বা কফির খাওয়ার অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
চাই সুস্থ বিনোদন
শুধু কাজের মাঝে নিজেকে বন্দি করে রাখলে কাজে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই চাই সুস্থ বিনোদন। শুধু কাজ করলে কাজে অগ্রগতিও হয় না। ধীরে ধীরে কাজের প্রতি অনীহা চলে আসে, ক্লান্তি গ্রাস করে। এসব কাটিয়ে তুলতে বিনোদন খুব কার্যকর একটি মাধ্যম। এই বিনোদন হতে পারে একা বা দলবেঁধে প্রিয় কোনো মুভি দেখা, পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বইপড়া, গান শোনা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি।
পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর নির্ভর করে কেমন কাটবে সারা দিন। ঘুম কম হলে মানুষের মনমেজাজ খিটখিটে থাকে, কাজে মন বসে না এবং অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হয়। নিয়মিত ও পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।