বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে এসে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছেলে পক্ষের মা-মেয়েসহ দুজন নিহত ও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে গোসাইরহাট পুরাতন লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার চালকসহ ১১ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মাঝেরচর এলাকায় যাচ্ছিল। ট্রলারটিতে সাতজন পুরুষ ও চারজন নারী ছিলেন। ট্রলারটি গোসাইরহাট ইউনিয়নের মেঘনার মাঝ নদীতে আসলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার (স্রোতের) কারণে ডুবে যায়। পরে এ ঘটনায় চারজন পুরুষ ও চারজন নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে তিনজন। পরে উদ্ধার হওয়া আটজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক। নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ধোলাই খাল এলাকা থেকে ছেলে শান্ত তার মা শাহানা বেগম, বোন জলি আক্তার, ছোট ভাই শাওন, বন্ধু হৃদয় ও প্রতিবেশী সুফিয়া বেগম, মোহাম্মদ আকাশ পারভীন বেগম মোট আটজন ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাঝেরচরে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখবে বলে রওনা দেন। গতকাল সকালে গোসাইরহাটের কোদালপুরের পুরাতন লঞ্চঘাটে নেমে মাঝেরচরের উদ্দেশে ট্রলারে রওনা দেন তারা। কোদালপুর ইউনিয়ন এলাকার মেঘনা মাঝ নদীতে আসলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার (স্রোতের) কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় মেয়ের চাচা ট্রলারচালক আনোয়ার হাওলাদার, চালকের ছেলে ইমরান হোসেন, তার সহযোগী ও তারা আটজন ছিলেন। তাদের মধ্যে আটজনকে উদ্ধার গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ছেলে শান্তর মা শাহানা বেগম ও বোন জলি আক্তারকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। এর মধ্যে প্রতিবেশী তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শান্ত, তার ভাই ও বন্ধু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গোসাইরহাট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার আব্দুল হাকিম খান বলেন, আমরা খবর পেয়ে মাদারীপুর থেকে দুজন ডুবুরি এনে উদ্ধার কাজ শুরু করি। এখনো নিখোঁজ কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর অতিরিক্ত স্রোত ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ অব্যাহত রাখা হবে।
গোসাইরহাট থানার ওসি পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আটজনের মধ্যে মা-মেয়ে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ারসার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা।