ফটিকছড়িতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা

কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সৃষ্ট নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে নেতাকর্মীদের প্রায় সবাই পলাতক রয়েছেন। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ জুলাই ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা করে। এসব মামলায় এজাহার নামীয় ৩৪ জনসহ ২০০ জনের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। গত ১৩ দিনে এ দুই মামলায় ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এসব মামলা ও আগের করা মামলা মাথায় নিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন ঘরছাড়া। 

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এসব মামলায় জামায়াতের নেতাকর্মীরাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। অনেকেই আত্মগোপনে থাকায় বন্ধ করে রেখেছেন মোবাইল ফোনও। ফলে কর্মীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোই যেন এখন তাদের মূল লক্ষ্য। বেশিরভাগ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে রাতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। তাই রাতে বাড়িঘরে থাকছেন না তারা। 

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপরও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েল করতে চাইছেন। এ কারণে অতীতের মতো নিরীহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে আবারও মাঠে নেমেছে পুলিশ। 

বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, আগে থেকেই মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সবার বিরুদ্ধেই কোনো না কোনো মামলা রয়েছে। আদালতে হাজিরা দিতে দিতেই দিন কাটে তাদের। এ অবস্থায় নতুন মামলা মহাবিপাকে ফেলে দিয়েছে তাদের। 

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির প্রথম সারির কিছু নেতা অদৃশ্য ইশারায় মামলা থেকে রেহাই পেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির হাজারও নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব কারণে অনেক দরিদ্র পরিবারে নেমে এসেছে অভাব-অনটন। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ফোন করলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। 

ফটিকছড়ি থানার ওসি মীর নুরুল হুদা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভূজপুর থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।