ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ১৫টি স্থানে ভেঙে ৭৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ২৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া জানান, গত ১ জুলাই প্রথম দফা বন্যার কবলে পড়েছিল ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলাবাসী। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় ফেনীর মহুরী নদী, কহুয়া নদী ও ছিলনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে আবারও বন্যার কবলে পড়েছে এ দুই উপজেলার মানুষ। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি বেড়েছে। মুহুরী, সিলোনিয়া, কহুয়া নদীর পানি বেড়ে ফুলগাজী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ফুলগাজী ইউনিয়নের নিলক্ষী, গাবতলা, মনতলা, গোসাইপুর, শ্রীপুর, বাসুরা, দেড়পারা, উত্তর দৌলতপুর, মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বদরপুর, মান্দারপুর, করইয়া, কালিকাপুর, কামাল্লা, নোয়াপুর, পৈথারা, জাম্মুরা, ফকিরের খিল, কমুয়া, বালুয়া, চানপুর, দক্ষিণ তাড়ালিয়া, দক্ষিণ শ্রীপুর, কুতুবপুর, ফতেহপুর, উত্তর আনন্দপুর, দরবারপুর ইউনিয়নের জগৎপুর, বসন্তপুর, ধলীয়া, চকবস্তা, উত্তর শ্রীপুর, বড়ইয়া, পশ্চিম দরবারপুর, পূর্ব দরবারপুর, আমজাদহাট ইউনিয়নের তালবারিয়া, উত্তর ধর্মপুর, দক্ষিণ ধর্মপুর, মনিপুর, ইসলামিয়া বাজার, আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্দুয়া, দৌলতপুর, তালপুকুরিয়া, জিএম হাট ইউনিয়নের মধ্যম শ্রীচন্দ্রপুরসহ ৪৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আট হাজার পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলগাজী এবং পরশুরাম অংশে প্লাবিত হওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক উপচে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্মকর্তা হাবিব শাপলা জানান, অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পরশুরাম উপজেলায় বন্যায় পৌরসভার বেড়াবাড়ি এবং বাউরখুমায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় বাউরখুমা, বাউরপাথর, বিলোনিয়া, দুবলাচাঁদ, বেড়াবাড়িয়া, উত্তর গুথুমা, কোলাপাড়া এবং বাসপদুয়া গ্রামের প্রায় সাত হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জানগর এবং কাউতলীতে বাঁধ ভেঙে উত্তর মনিপুর, দক্ষিণ মণিপুর, কালী
কৃষ্ণনগর, গদানগর, উত্তর কাউতলী, দক্ষিণ কাউতলী, দাসপাড়া, চম্পকনগর, মেলাঘর, গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর, মালীপাথরসহ চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পূর্ব অলকা, পশ্চিম অলকা, নোয়াপুর, ধনীকুন্ডা, দক্ষিণ শালধর, জঙ্গলঘোনা, কুন্ডেরপাড়, মালীপাথর ও পাগলীরকুল গ্রামের প্রায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর এবং সাতকুচিয়ায় বাঁধ ভেঙে সাতকুচিয়া জমিয়ারগাঁও, বাঘমারা, চারিগ্রাম টেটেশ্বর, কহুয়া, তালবাড়িয়া গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পরশুরামে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
মির্জানগর এলাকার বাসিন্দা আবু আবদুল্লাহ বলেন, ‘এত প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করতে এর আগে কখনো দেখিনি। বাড়িতে পানি উঠে গেছে। খুব কষ্টে রাত পার করছি আমরা।’ মো. খলিল উল্লাহ নামে আরেকজন বলেন, ‘এই দিকের এলাকা উঁচু হওয়ায় সাধারণত বন্যার পানি প্রবেশ করে না। কিন্তু এবার ভারী বর্ষণে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে আমাদের।’
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, এর আগে কখনো এত পানি দেখা যায়নি। ফুলগাজীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পেয়েছি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাঁধের আরও কয়েকটি অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।