নবীজি সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করতেন। হাদিস ও সিরাতের কিতাবে এর বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। নামাজে, নামাজের বাইরে, রাতের আঁধারে এবং দিনের আলোতে, সর্বাবস্থায় তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নামাজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নবীজি এত দীর্ঘ সময় তেলাওয়াত করতেন যে, তার পা মোবারক ফুলে যেত। (সহিহ মুসলিম ২৮১৯)
এ ছাড়াও রমজান মাসে হজরত জিবরাইল (আ.)-কে নবী করিম (সা.) পূর্ণ কোরআন শোনাতেন এবং জিবরাইল (আ.) থেকেও তিনি পূর্ণ কোরআন মজিদ শুনতেন। (সহিহ বুখারি ৬)
হজরত রাসুল (সা.) যেভাবে নিজে কোরআন তেলাওয়াত করতেন তেমনি সাহাবিদের থেকেও কোরআন তেলাওয়াত শুনতেন। একবার নবী করিম (সা.) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে বললেন, তুমি আমাকে একটু তেলাওয়াত করে শোনাও তো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে তেলাওয়াত শোনাব? আপনার ওপরই তো কোরআন নাজিল হয়েছে! প্রিয় নবী (সা.) বললেন, আমার মন চাচ্ছে, কারও থেকে একটু তেলাওয়াত শুনি! এ কথা শুনে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সুরা নিসা তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন। পড়তে পড়তে যখন এ আয়াত পর্যন্ত আসলেন, সুতরাং (তারা ভেবে দেখুক) সেই দিন (তাদের অবস্থা) কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং (হে নবী), আমি আপনাকে ওইসব লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব। (সুরা নিসা ৪১)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পড়ল তার জন্য রয়েছে একটি নেকি। আর একটি নেকি দশ নেকি সমতুল্য। নবীজি (সা.) বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ, লাম, মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। (জামে তিরমিজি ২৯১০)
কোরআন শরিফ আমাদের ঘরের বুক শেলফের এক কোণে মলাটবদ্ধ হয়ে পড়ে থাকে। তা খুলে দেখার সময় আমাদের আর হয়ে ওঠে না। অথচ কোরআনের হক হচ্ছে তা পাঠ করা। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহকালীন জীবনে কোরআনে করিমকে নিজের সঙ্গী বানাবে কেয়ামতের দিন কোরআন তাকে ভুলবে না। কেয়ামতের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে কোরআন তাকে সঙ্গ দেবে এবং তার জন্য সুপারিশ করবে।
আবু উমামা বাহেলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা কোরআন পড়ো। কেননা কেয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। (সহিহ মুসলিম ৮০৪) সুতরাং কেয়ামতের দিন সুপারিশ পাওয়ার জন্য বেশি পরিমাণে কোরআন তেলাওয়তের বিকল্প নেই।
হাদিস শরিফে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, যাদের হাদিসের ভাষায় আল্লাহতায়ালার পরিবার-পরিজন বলে অভিহিত করা হয়েছে, আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কতক লোক আল্লাহর পরিবার-পরিজন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বললেন কোরআন তেলাওয়াতকারীরাই আল্লাহর পরিবার-পরিজন এবং তার বিশেষ বান্দা। (ইবনে মাজাহ ২১৫)