খুলনায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান বাসাবাড়িতে হামলা-লুট

মহানগরীসহ খুলনার ৯ উপজেলায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে এই কর্মকান্ড। এ কারণে বহু প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দুবর্ৃৃত্তরা ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। এতে মানুষ অতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার রাতে নগরীর গগনবাবু রোডে সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তার বাড়ির চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ সবকিছু লুটপাট করা হয়েছে। এর আগে সোমবার দুই দফা হামলা চালানো হয় সিটি মেয়রের বাড়িতে।

এ ছাড়া খুলনা জেলা পরিষদ, খুলনা প্রেস ক্লাব, সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের শেরেবাংলা রোডের বাড়ি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বিপ্লবের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৯ উপজেলায় অনুরূপ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে সরেজমিন নগরীর শেরেবাংলা রোডের শেখ হেলালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, শেখ হেলালের বাড়ির টাইলস, পুড়ে যাওয়া দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। একই অবস্থা দেখা যায়, জেলা পরিষদ ভবনেও।

এ ছাড়া নগরীর অধিকাংশ থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেক বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। এদিকে নগরীর ডাকবাংলো মোড়সহ বড় বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট লুটপাট করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অফিস-আদালত খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল কম। নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, বড় বাজারসহ বেশির ভাগ এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

ডাকবাংলো মোড়ের একজন ব্যবসায়ী জানান, নিরাপত্তার অভাবে তারা দোকানপাট খোলেননি। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা আসেনি। ফলে কিছুক্ষণ শিক্ষকরা থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংসযজ্ঞের রাজনীতি করে না। সব সম্প্রদায়ের মিলিত শক্তি দেশ গড়ার হাতিয়ার। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, মন্দির ও তাদের ধন-সম্পদ রক্ষায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিচ্ছেন।’