সরকারের পতনের পর সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের সীতাকু-েও জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসে। গত সোমবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে তারা। এ সময় উত্তেজিত জনতা বারবার সীতাকু- থানায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তৎক্ষণাৎ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে থানার গেটে মানব প্রাচীর তৈরি করেন জামায়াত-বিএনপির নেতারা। গত মঙ্গলবারও দিনভর দফায় দফায় মিছিল করেন জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা।
এই দিনও থানার গেটে মানব প্রাচীর তৈরি করেন জামায়াত-বিএনপি নেতারা। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও গির্জাগুলোতে নিরাপত্তা দিতে জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের সাঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবরে আনন্দে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। এ সময় জনরোষ থেকে পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে থানার গেট পাহারা দিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন জামায়াত-বিএনপির নেতারা। তবে চারিদিক থেকে দফায় দফায় আসা বিশাল মিছিলের আক্রমণ থেকে থানা ও পুলিশকে বাঁচাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় তাদের। গেট থেকে তাদের সরিয়ে একাধিকবার থানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টাও করে মিছিলকারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত থানা এবং পুলিশদের রক্ষা করতে সক্ষম হন তারা। আর এতে খুশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও। ফেসবুকে পোস্ট করে অনেকে কৃতজ্ঞতাও জানাচ্ছেন তাদের প্রতি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। শেখ হাসিনার পতনে বিজয় উল্লাস প্রমাণ করে মানুষ কত কষ্টে ছিল। সবকিছু ভুলে গিয়ে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিদিন নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের জান মাল, মন্দির ও গির্জা পাহারা দিচ্ছে।’
সীতাকু-ের জামায়াতে ইসলামীর নেতা অ্যাডভোকেট হুসাইন মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘সীতাকুন্ড থানায় কর্মকর্তাদের সাঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তাদের কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য আশ্বস্ত করেছি। এ ছাড়া আমাদের নেতাকর্মীরা রাত জেগে বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ধর্মীয় প্রার্থনালয় ও জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। কেউ যেন অনাকাক্সিক্ষত কিছু করতে না পারে, সেদিকেও আমাদের কর্মীরা সজাগ রয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সীতাকু- উপজেলার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিজয়ের পর থেকেই সীতাকু-ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা ও মন্দিরের নিরাপত্তায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।’