রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের সরিয়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব নিলেন ছাত্ররা

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নেত্রকোনা শহরের সড়কগুলোয় দিনরাত দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে গতকাল শুক্রবার ট্রফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে আসা রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের সরিয়ে দিয়েছেন নেত্রকোনার সাধারণ ছাত্ররা।

তবে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, তাদের জোর করে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং করানো হয়েছে। তাদের এ কাজে বাধ্য করেছেন ইউনিটের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা। এ ঘটনায় তারা লজ্জিত ও মর্মাহত।

জানা গেছে, দেশে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকেই রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের ছাত্রদের বিপক্ষে কাজ করতে বাধ্য করানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিছিল করিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

দলীয় ও রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু। ইউনিটের অন্যতম কার্যকরী সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি সাইফুল্লাহ ইমরান। তারা দীর্ঘদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ব্যবহার করেছেন।

গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিতাড়িত হওয়া রেড ক্রিসেন্টের জেলা ইউনিটের সদস্য তানজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা ছাত্র। আমরা বিপদে এগিয়ে যাওয়া শিখেছি এই সংগঠন থেকে। কিন্তু তারা আমাদের ব্যবহার করেছে। আমাদের মানসিক নির্যাতন করে মুখ বন্ধ রেখে অমানবিক কাজ করিয়েছে। সরকার পতনের দুদিন আগে ইউনিটে ডেকে কার্যকরী সদস্য সাইফুল্লাহ ইমরান আমাদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে নামিয়েছে। রেলক্রসিং এলাকায় আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিন আগস্ট ছাত্রদের ওপর হামলা করিয়েছে। আমাদের সংগঠনে ছাত্রলীগ নেতাদের সদস্য পদ দিয়ে তাদের মাধ্যমে ছাত্রদের অত্যাচার করিয়েছে। সর্বশেষ ৪ আগস্ট আমাদের দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিপক্ষে পাবলিক হল থেকে শান্তি মিছিলের নামে একটি ভয় দেখানো মিছিল করিয়েছে। যার জন্য আমরা অনুতপ্ত। ছাত্র হয়েও আমাদের ছাত্রদের বিপক্ষে লড়তে হয়েছে।’

রেড ক্রিসেন্টের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুল্লাহ ইমরানের নম্বর বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তারা আন্দোলনে দমন-পীড়ন করেছে। এজন্য ছাত্ররা এদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’