কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও দৌলতপুর সড়কের আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে হাজারো মানুষের ভাগ্য। সেই সঙ্গে পাল্টে যাবে এলাকার অর্থনীতির চিত্রও। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় বহু বছর ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। রাতে চলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ স্থানে একটি সেতুর জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বহু আবেদন-নিবেদন করা হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর্সি নদী পারাপার হয় বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, মোহাম্মদপুর, ঘোড়াশাল, সোনাকান্দা, জোগেরখিল, মেটংঘর ও দৌলতপুর গ্রামের মানুষ। এ ছাড়া রোয়াচালা, কুড়ন্ড-ী, পিপিড়িয়াকান্দা, চুলুড়িয়া, বড়িয়াচুড়া, কুড়াখাল, কালীসিমা, পেন্নই, দীঘিরপাড়, পাজিরপাড়, কাউইন্নামুড়ি, বিষ্ণপুর, শ্রীকাইল, চন্দনাইল, রামচন্দ্রপুর, বি-চাপিতলাসহ উপজেলার উত্তর অঞ্চলের লোকজনের বাঙ্গরা বাজার থানা সদরের মধ্যে যোগাযোগ করতে হলে প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক ঘুরে আসতে হয়।
এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন হাজার লোক যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের লোকজনের পারাপার, কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া ও গবাদি পশু পারাপারের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে প্রতি বছরই এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে ও সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ। এটি যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর। ঝুঁকি নিয়েই কোমলমতি শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। কখনো কখনো পা ফসকে বই-খাতা পড়ে যায় পানিতে। কেউ অসুস্থ হলে বাড়ি থেকে কাঁধে করে উপজেলা সদরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার লোকজনের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত তৈরি হবে বলে স্থানীয়দের আশা।
স্থানীয়রা জানান, ভোট এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে আর খোঁজ রাখেন না। তাই স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোই এখন ভরসা। তবে ভরা বর্ষায় সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হয়। তারা অবিলম্বে সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহার খান বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, আর্সি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বরাদ্দ পাইনি। সেতুটি নির্মিত হলে মুরাদনগর উপজেলা উত্তর অঞ্চলের ২০ গ্রামের লোকদের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে। আরও উন্নত হবে তাদের জীবনমান।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে খুব শিগগিরই বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’