নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, রাষ্ট্র পুনর্গঠনই লক্ষ্য

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এ সরকারের মূল লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

দেশ রূপান্তর : আপনার মন্ত্রণালয় নিয়ে কী ভাবছেন?

নাহিদ ইসলাম : আমাদের আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল। এই ইন্টারনেটের দায়িত্বই আমার কাছে চলে এসেছে। আমার প্রথম কাজ হবে এটার তদন্ত করা। কেন ওই সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেওয়া উচিত, সে সুযোগটা আমার আছে। যেহেতু এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এর ভূমিকা থাকবে। অফিশিয়ালি যেহেতু এখনো (মন্ত্রণালয়ে) যাইনি, যাওয়ার পর পরিকল্পনা সাজাব। তবে এ মন্ত্রণালয় নিয়ে যে সমালোচনাগুলো আছে, যেমন আড়িপাতা, সিকিউরিটি অ্যাক্ট এ সমালোচনাগুলোকে আমলে নেওয়ার চেষ্টা করব। এটা নিয়ে নতুন ধরনের পলিসি নেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : এই সরকারের মূল লক্ষ্য কী?

নাহিদ ইসলাম : যে যে প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এ গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং সরকার গঠিত হয়েছে, সে লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পুনর্গঠন এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য। এ ছাড়া ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণহত্যাসহ ফ্যাসিজমের অপকর্ম রয়েছে তার বিচার করা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের সরকারের লক্ষ্য।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের দাবি অনুযায়ী কোটা সংস্কার নিয়ে চূড়ান্ত আইন হবে কি না?

নাহিদ ইসলাম : কোটা সংস্কার যেটা হয়েছে সেটা আমরা চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করিনি। আমরা একটি কমিশনের কথা বলছি, সংসদে আইনের কথা বলছি। এখন সেটার অবশ্যই সুযোগ আছে। তবে সংসদ যেহেতু নেই, নির্বাহী আদেশের সুযোগ আছে। কমিশন যাতে গঠন করা হয় সে প্রস্তাবনা আমরা দেব। কোটা নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা আমরা করব।

দেশ রূপান্তর : শহীদ পরিবারদের ক্ষতিপূরণের দাবি ছিল আপনাদের, সেটা নিয়ে কী ভাবছেন?

নাহিদ ইসলাম : শহীদ পরিবার এবং যারা আহত তাদের সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই দেওয়া হবে। এজন্য পূর্ণাঙ্গ তালিকাটা প্রয়োজন, সেটা আমরা করব। তারপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এ আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে, সবাই থাকবে এর আওতায়।

দেশ রূপান্তর : পুলিশ পুনর্গঠনের কথা বলছেন আপনারা, সেটা কেমন হবে?

নাহিদ ইসলাম : পুলিশ কাজে আসা শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজারবাগে গিয়ে কথা বলার আলোচনা চলছে। পুলিশের প্রধান পদগুলোতে ইতিমধ্যে পরিবর্তন হচ্ছে, আরও হবে। যারা নির্দেশদাতা ছিলেন, বিশেষ করে আন্দোলনে গুলি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুনর্গঠনের কিছু দাবি পুলিশের পক্ষ থেকেও এসেছে, আমাদের জায়গা থেকেও আসছে। যেকোনো সরকার পুলিশকে নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যবহার করে, বিরোধী দলকে দমনের কাজে ব্যবহার করে। শেষ পর্যন্ত দোষটা প্রতিষ্ঠানের ওপর যায়। এ বিষয়গুলো সংশোধন করতে আরেকটু সময় লাগবে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে একটা আস্থার জায়গা দিতে চাচ্ছি।

দেশ রূপান্তর : ছাত্র প্রতিনিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী?

নাহিদ ইসলাম : ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সেজন্য শিক্ষার্থীদেরও নেতৃত্বে আসা উচিত। প্রতিজন উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা একজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার বিষয়ে আলোচনা করছি।

দেশ রূপান্তর : এই সরকারের মেয়াদ কেমন হবে?

নাহিদ ইসলাম : মেয়াদ এখনো ঠিক হয়নি। কিছু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এ সরকার গঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন তথা সংস্কার আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এটি ছাড়া নির্বাচন দিলে সবকিছু আগের অবস্থানে ফিরে আসবে। পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা আমরা তৈরি করছি। সেটি অনুযায়ী মেয়াদ নির্ধারিত হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সব ঠিক করা হবে।

দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নাহিদ ইসলাম : দেশ রূপান্তর এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।