রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্ক পাড়া-মহল্লায় নির্ঘুম মানুষ

প্রবল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার আগে-পরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বহু থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান পুলিশ সদস্যরা। ভেঙে পড়ে বেশিরভাগ থানার কার্যক্রম। আর এ সুযোগে বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধের ঘটনা ঘটছে। পাড়া-মহল্লায় রাত নামলেই বাড়ে ডাকাত আতঙ্ক। এলাকাভিত্তিক রাতভর পাহারাও দিচ্ছে ছাত্র-জনতা। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করে সেনাসদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী। ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে করা হয় মাইকিংও। ডাকাতির খবর পেলে এলাকাবাসী ফোন করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাজধানীর বাসাবো, নন্দীপাড়া, রামপুরা, গোড়ান, বনশ্রী, শাঁখারীবাজার, কাঁঠালবাগান ও মিরপুর এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় মসজিদে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান, পান্থপথ, কাঁঠালবাগান ও ভূতের গলি এলাকায়ও ডাকাত দলের আগমনে মসজিদের মাইক থেকে সাবধান করা হয়। কাঁঠালবাগানে ডাকাতি করতে গিয়ে ১১ জন ধরা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মিরপুরের মাজার রোড থেকে তিনজন ও শনির আখড়া থেকে একজন ডাকাতকে আটক করেছে এলাকাবাসী। ডাকাত আতঙ্ক সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজধানীর কমলাপুরের কবি জসীমউদ্দীন রোডে ডাকাত দল ঢোকার খবর পাওয়া গেছে। বাড্ডাতে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাতের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রামপুরায় দুই ডাকাত ধরা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

ডাকাত প্রতিরোধে নেমেছে গ্রিনরোডবাসী। বৃহস্পতিবার রাতে অন্তত ২০০ মানুষ বাঁশি বাজিয়ে মিছিল করেছেন মহল্লাটিতে। রাতভর আতঙ্ক দেখা যায় সেখানে। বাদ যায়নি পুরান ঢাকাও। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজারেও ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। সাতরওজা এলাকায় ডাকাত ধরতে এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে যায়।

ডাকাত আতঙ্ক নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লেখেন, ‘রামপুরা এরিয়াতে ডাকাতরা বিভিন্ন দোকানপাটে হামলা করে লুট করতেছে, ওইদিকে যারা আছেন হেল্প করুন।’ একই রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে ফেসবুকে ডাকাতবিষয়ক পোস্ট দেন রিদম নাথ নামে একজন। তিনি লেখেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়ির ঠিক পাশের ভবনে এক দল লোক এসে জিনিসপত্র লুট করতে শুরু করে। কিন্তু এলাকার মানুষজন পাহারায় থাকায় বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও মোহাম্মদপুর, ধানম-ি, মিরপুর ও রামপুরা এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে না থাকার সুযোগে রাতে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এলাকাবাসী। ডাকাতির ঘটনায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির দেওয়া জরুরি নম্বরে ফোন করেন অনেকেই।