দিনাজপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গণঅবস্থান, বিক্ষোভ

দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুরে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা সনাতনীদের রক্ষাসহ ৪ দাবি উত্থাপন করেন।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ, স্বস্তিতে বাঁচতে চাই- এই শ্লোগানে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এস্টেটের সদস্য ও চিকিৎসক ডা. ডিসি রায়, সনদ চক্রবর্তী লিটু, প্রফেসর ড. বিকাশ প্রমুখ।

এ সময় ‘স্বাধীন দেশে আমার ঘর পুড়ল কেন?’, ‘হিন্দুদের ওপর হামলার জবাব চাই’, ‘আমরা কেন স্বাধীন নই?’, ‘বিজয় কি মন্দির পুড়িয়েই শুরু হয়?’, ‘সহানুভূতি নয়, আমরা অধিকার চাই, ‘হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই বৈষম্যের ঠাই নাই’, ‘সেভ বাংলাদেশি হিন্দুসহ বিভিন্ন প্লাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে কয়েক হাজার সনাতনী নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোর মিছিল ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রতিটি লড়াই-সংগ্রামে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু দেশে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয়, লুটপাট করা হয়। যেকোনো ধরনের ইস্যু আসলেই তাদের জানমালের ওপর আঘাত করা হয়, নারীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন হয়। স্বাধীন দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নেই কেন? কোনও কিছু হলেই সনাতনীদের ওপর হামলা হয় কেন? সম্প্রতি দেশের বিভিন্নস্থানে সনাতনীদের ওপর হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে, অগ্নিসংযোগ হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। প্রতিনিয়তই এটি হয়ে আসছে। রাত জেগে সনাতনীরা তাদের উপাসনালয় ও বাড়িঘর পাহাড়া দিচ্ছে। কিন্তু এভাবে কতদিন তারা পাহারা দেবেন? কারা এসবের সঙ্গে জড়িত? কেন এ অরাজকতা? সনাতনীদের দোষ কোথায়?

বক্তারা সমাবেশ থেকে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল প্রকার হামলা প্রতিরোধে কঠোর আইন ও সংখ্যালঘুদের ১০ শতাংশ সংসদীয় আসন বরাদ্দ প্রদান।