রাস্তায় পণ্যের নিরাপত্তা নেই। ফলে আমদানিকারকরাও বন্দর থেকে পণ্যের ডেলিভারি নিতে পারছে না। ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৩৮ হাজার একক কনটেইনার থাকার কথা সেখানে এখন ৪৩ হাজার ৯০০-তে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে শুধু বন্দরের ইয়ার্ড নয়, অফডকগুলোতেও রপ্তানিমুখী কনটেইনারের জট তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে আমদানিকারকরা।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্টোররেন্টও মওকুফ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সে অনুযায়ী পণ্য ডেলিভারি হয়নি। গত রবিবার থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাস্তায় গতকাল সোমবার থেকে পুলিশ নেমেছে। এখনো সব থানায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। আবার পুলিশের আর্মসও তেমন একটা নেই।
গতকালের মধ্যে সব পুলিশকে কাজে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়ার পর হয়তো আজ মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না বলেই এতদিন বন্দর থেকে পণ্যের ডেলিভারি নেওয়া হয়নি বলে আমদানিকারকদের ভাষ্য।
দেশের সবচেয়ে আমদানি পণ্য আসে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে। এ বিষয়ে পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাসের প্রথম দিকে ছিল দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরবর্তীকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও পুলিশ না থাকায় আমরা পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে খুব শঙ্কিত ছিলাম। তাই বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্যের ডেলিভারি নেওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বন্দরের ভেতরে কনটেইনারের জট বেড়ে যায়।’
কবে নাগাদ ডেলিভারির গতি বাড়তে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কাজে ফিরেছে এবং আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার থেকে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তখন বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারির গতি বাড়তে পারে।’
অন্যদিকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি নিতে কাস্টমসের শুল্কায়নের টাকা পরিশোধেও সমস্যা রয়েছে বলে জানান একাধিক আমদানিকারক। তারা জানান, এখন ব্যাংকগুলোতে দুই লাখের বেশি টাকা তুলতে দিচ্ছে না। এতে শুল্কায়নের টাকা পরিশোধেও একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে আমদানি পণ্যের জটলা যখন বাড়ছে তখন চট্টগ্রামের ১৯টি অফডকে রপ্তানিমুখী কনটেইনারের জটলাও বাড়ছে। অফডকগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে রপ্তানিমুখী কনটেইনারের পরিমাণ ৮ থেকে ৯ হাজার থাকে, কিন্তু গতকাল এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ১৪২ একক কনটেইনার।
রপ্তানিমুখী কনটেইনার বাড়ার কারণ জানতে চাইলে অফডকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কনটেইনার এসে আমাদের অফডকগুলোতে জমা হয়েছে। কিন্তু জাহাজীকরণ কম হচ্ছে বলে এসব কনটেইনার ডিপো থেকে বের হয়ে বন্দরের ইয়ার্ডে প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। ফলে জট বাড়ছে।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯৩ ভাগ আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে ৫৩ হাজার ৫১৮ একক কনটেইনারের ধারণক্ষমতা রয়েছে। গত রবিবার বন্দরে ছিল ৪৩ হাজার ৪৮০ এবং গতকাল ৪৩ হাজার ৯৪১ একক কনটেইনার। বন্দরের ভেতরে কনটেইনার বেশি থাকলে ইয়ার্ডের ভেতরে মুভমেন্টে সমস্যা হয় এবং বন্দরের কাজের গতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।