বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে গেছেন। পাশাপাশি জেলার ৬টি পৌরসভার মেয়রদেরও একই অবস্থা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদধারী ও নিজ এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে তারা এখন ভয়ে নিজ এলাকায় আবার অনেকে এলাকার বাইরে আত্মগোপনে চলে গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।
উপজেলাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। আসছেন না তার অফিসেও। দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরউদ্দিন খসরু। তিনি দক্ষিণ অঞ্চলের বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী হিসাবে পরিচিত। পরিবারসহ তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। কিন্তু দেশের চলমান পরিস্থিতি মধ্যে তাকে নিজ এলাকায় দেখা যায়নি। আর অফিসও করছেন না।
এছাড়াও বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিব আহম্মদ তালুকদার, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ঘরনা (বরিশাল ৪ আসনের এমপি পঙ্কজ নাথ) এর অনুসারী একেএম মাহফুজুল আলম লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান (ইকবাল), বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব এবং হিজলা উপজেলায় চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ দীপু সিকদার দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের আত্মগোপনে রেখেছেন।
মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মো. শফিকুজ্জামন রুবেল। টানা তিন বার তিনি এই পৌর মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হন। তাই নিজ এলাকায় গড়েছেন একক আধিপত্য। বর্তমানে তিনি নিজ এলাকায় থাকলেও আত্মগোপনে রয়েছেন।
এছাড়াও বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন ডাকুয়া, পৌরসভার মেয়র ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন ভূ্ইয়া, মেহেন্দিগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খান, বানারিপাড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুভাষ চন্দ্র শীল, উজিরপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারীর দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে আত্মগোপনে রেখেছেন।
এদিকে দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক উপজেলা পরিষদের কর্যক্রম সীমিতভাবে চালু রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের এই অবস্থার মধ্যে আমরা সীমিতভাবে অফিসের কর্যক্রম চালু রেখেছি। তবে আমাদের ঝুঁকি রয়েই গেছে।’
অপরদিকে বরিশাল আগৈলঝাড়ায় উপজেলার চিত্র ভিন্ন। এই উপজেলার চেয়ারম্যান যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তবে গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ওই নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। আর দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে সভা করে উপজেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন।